১৯ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

আষাঢ়-শ্রাবণের চিরচেনা সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে থাকা অন্তত ১৯টি জেলার ওপর দিয়ে তীব্র ঝোড়ো হাওয়াসহ ক্ষণস্থায়ী বজ্রবৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD) এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

উদ্ভূত আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সকল নদীবন্দরগুলোকে বিশেষ সতর্কসংকেত প্রদর্শন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া এক জরুরি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আবহাওয়া অফিস।

দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া: ঝুঁকিতে ১৯ অঞ্চল

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ওপর বর্তমানে দক্ষিণমুখী ও দক্ষিণ-পূর্বমুখী মৌসুমি বায়ু বেশ সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের প্রধান প্রধান নদী অববাহিকা ও সংলগ্ন জেলাগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থেকে প্রবল বজ্রঝড় ও বৃষ্টিপাত হতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী ঝোড়ো হাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ১৯টি বিশেষ অঞ্চল ও জেলাগুলো হলো— ১. রংপুর, ২. দিনাজপুর, ৩. রাজশাহী, ৪. পাবনা, ৫. বগুড়া, ৬. টাঙ্গাইল, ৭. ময়মনসিংহ, ৮. ঢাকা, ९. ফরিদপুর, ১০. কুষ্টিয়া, ১১. যশোর, ১২. খুলনা, ১৩. বরিশাল, ১৪. পটুয়াখালী, ১৫. কুমিল্লা, ১৬. নোয়াখালী, ১৭. চট্টগ্রাম, ১৮. কক্সবাজার এবং ১৯. সিলেট। মূলত দেশের প্রায় সবকটি বিভাগেই এই বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব কম-বেশি বজায় থাকবে।

নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত ও নৌযান চলাচলে কড়াকড়ি

আবহাওয়ার এই আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে উল্লিখিত ১৯টি অঞ্চলের নদী অববাহিকায় অবস্থানরত সব ধরনের নৌযান ও বন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ সতর্কসংকেত (সতর্কতা সংকেত) দেখাতে বলা হয়েছে।

হঠাৎ করে মাঝনদীতে ঝড়ের কবলে পড়া এড়াতে ছোট ছোট লঞ্চ, স্পিডবোট, ট্রলার এবং মাছ ধরার নৌকাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। বিশেষ করে বরিশাল, পটুয়াখালী ও চট্টগ্রামের মতো উপকূলীয় ও নদীপ্রধান জেলাগুলোতে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা না ঘটে।

সাময়িক জলাবদ্ধতা ও যান চলাচলের ধীরগতির আশঙ্কা

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান বিভাগীয় শহরগুলোতে গত কয়েক দিন ধরেই থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আজকের এই নতুন পূর্বাভাসের ফলে বিকেলের দিকে বা অফিস ছুটির সময়ে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটের মতো ব্যস্ত নগরীগুলোর নিচু এলাকায় সাময়িক জলজট বা জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

আবহাওয়া অফিস সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা ও রেইনকোট সাথে রাখার এবং বজ্রপাতের সময় পাকা দালানের নিচে বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সড়কে দৃষ্টিসীমা কমে আসতে পারে বিধায় মহাসড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার যানবাহনগুলোকে সাবধানে ফগলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলার আহ্বান জানিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *