রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়েছেন মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সিজু। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের চৌরঙ্গী মার্কেটের নিচে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ শান্ত ভূঁইয়া (২৪) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা।
আহত সাইফুল ইসলাম সিজুকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার দুই পা ও কোমরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলাম সিজুর বাড়ি মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকায়। তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ বাসার দ্বিতীয় তলায় ‘এসটি’ নামে একটি ইন্টারনেট সেবাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিন থেকে চারজনের একটি দল হঠাৎ তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। হামলাকারীদের ছোড়া গুলিতে তার দুই পা ও কোমরে আঘাত লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার পর হামলাকারীদের একজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে মিরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম শান্ত ভূঁইয়া (২৪) বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহতের শ্যালক সাইদুল ইসলাম বলেন, কী কারণে সাইফুল ইসলামের ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারের কাছে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। হামলার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য তারা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, আহত সাইফুল ইসলামের দুই পা ও কোমরে গুলির আঘাত রয়েছে। জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে মিরপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক শান্ত ভূঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হামলার নেপথ্যের কারণ এবং এতে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান গুলির ঘটনা এবং একজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে পূর্ব বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, হামলায় অন্তত দুজন সরাসরি অংশ নিয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজনকে আটক করা হলেও অপর হামলাকারী এখনও পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি জানান, গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলামের শরীরে বুধবার অস্ত্রোপচার করা হবে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলমান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে হামলার উদ্দেশ্য ও জড়িতদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে।
