ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি, সরব ইউরোপীয় পার্লামেন্ট

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর আসরে পক্ষপাতিত্ব, রাজনৈতিক প্রভাব ও নজিরবিহীন আইনি ফাঁকফোকর খাটিয়ে খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের গুরুতর অভিযোগে ফিফা (FIFA) প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) একদল প্রভাবশালী ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা ফিফা প্রেসিডেন্টের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে বিশেষ আইনি তৎপরতা শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এপি নিউজের (AP News) এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।

অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নীতিনির্ধারকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অন্তর্ভুক্ত ২৭টি দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তারা বিশ্বফুটবলের স্বচ্ছতা ও সততা ধরে রাখতে এবং ফিফার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইউরোপের দেশগুলোকে একজোট হয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ ও গভীর তদন্তের দাবি তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঘটনার নেপথ্যে ‘বালোগান মামলা’ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন কল

চলমান রেফারি ও ফিফা বিতর্কের মূল সূত্রপাত ঘটে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ম্যাচে। ওই খেলায় মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান সরাসরি লাল কার্ড (Red Card) পেয়ে টুর্নামেন্ট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু এই লাল কার্ডকে সম্পূর্ণ ‌‌‌‘অন্যায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এরপরই ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়ে ফিফা এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে রাতারাতি বালোগানের ওপর থাকা ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দেয়। গুঞ্জন উঠেছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বশরীরে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন এবং ‘একটি বিশাল অন্যায়ের অবসান ঘটানোর জন্য’ তাকে অগ্রিম ধন্যবাদও জানান। রাজনৈতিক চাপের মুখে ফুটবলের নিয়ম খর্ব করার এই ঘটনাটি ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

‘নজিরবিহীন ও অগ্রহণযোগ্য’: ক্ষোভে ফুঁসছে উয়েফা

ফিফার এই পক্ষপাতমূলক ও রাজনৈতিক চাপ মেনে নেওয়ার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত ইউরোপজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা (UEFA) এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেছে, “এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন, অবিশ্বাস্য এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ঘটনা। কোনো বিশেষ দেশের রাজনৈতিক প্রধানের কথায় ফুটবলের নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে না।”

২০২৬ বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচে রাজনৈতিক ও স্পন্সর চাপ খতিয়ে দেখা হবে

চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শুরু থেকেই মাঠের রেফারি প্যানেল, ভিএআর (VAR) এবং ম্যাচ অফিশিয়ালদের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, তারা শুধু বালোগান মামলার বিষয়টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না। চলমান মেগা টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ম্যাচে খেলার ফলাফলের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ, বিলিয়ন ডলারের স্পন্সর ইস্যু এবং ফিফা শীর্ষ মহলের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার মতো গুরুতর বিষয়গুলোও এই তদন্তের আওতায় খতিয়ে দেখবে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার এমন নৈতিক স্খলন পুরো টুর্নামেন্টের গ্রহণযোগ্যতাকেই এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *