ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তহবিলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ কোটি টাকা জমা দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৩৩তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী তন্ময় কুমার সাহা এই নোটিশটি পাঠিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে যৌথভাবে এ নোটিশ পাঠানো হয়।
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১ জুলাই ডাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাঙালি মুসলমানের জাগরণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে অত্যন্ত অবমাননাকর, বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করেন। তিনি গত ৫০ থেকে ৭০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাদের জাতীয় সামগ্রিক ক্ষতির জন্য দায়ী করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশেও বিদ্বেষমূলক ও বিভাজন সৃষ্টিকারী বক্তব্য প্রদান করেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, এসব মন্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, নোটিশে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এবি পার্টির মহাসচিবকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার বিতর্কিত বক্তব্য নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করে মূলধারার ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।
এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার দায়ে দৃষ্টান্তমূলক ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ কোটি টাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিলে জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়, যাতে এই অর্থটি একাডেমিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। নোটিশে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা না হলে জনস্বার্থে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন (পিআইএল) দায়ের করা হবে।
