চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পরোক্ষ কূটনীতিতে ফিরলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

গত ৭ মাস ধরে চলমান উত্তেজনা-সংঘাতের মধ্যেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ কূটনীতিতে ফিরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গতকাল সোমবার দু’দেশের কর্মকর্তারা পৃথকভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

এই আলোচনা সম্পর্কে অবহিত একজন কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান যে নতুন সাত দিন মেয়াদী প্রস্তাব মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছে, সেটির ওপর আলোচনা হয়েছে এবং পরবর্তীতেও যাবতীয় আলোচনা হবে এই নতুন প্রস্তাবের সংশোধিত সংস্করণকে কেন্দ্র করে।

আলোচনা সম্পর্কে অবহিত এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, পরবর্তী যেকোনো আলোচনা মূলত সাত দিন মেয়াদী একটি প্রস্তাবের সংশোধিত সংস্করণের ওপরই কেন্দ্র করে হবে; প্রস্তাবটি ইরান গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে উপস্থাপন করেছিল।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে নিউইয়র্কে গিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। সেখানে গিয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাবের নথি পাঠিয়েছেন তিনি।

সেই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনকে বলেছেন, যদি ওয়াশিংটন নথিতে থাকা শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি থাকে, তাহলে আগামী ৭ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে এই জলপথকে পুনরায় বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য উন্মুক্ত করে দেবে তেহরান।

নতুন শান্তি প্রস্তাবের নথি পাঠানোর পর নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যদি মার্কিনিরা বলে দাবি করে যে তারা একটি চুক্তি বা শান্তিপূর্ণ সমাধানের খুঁজছে, সেক্ষেত্রে আমরা বলব— আমাদের কাছে একটি সমাধান আছে এবং তা ইতোমধ্যে আমরা তাদের পাঠিয়েছি।”

এদিকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইরান নতুন প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে তার পরের দিন রোববার তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে বলেন যে তিনি আশা করছেন যে চলতি সপ্তাহেই মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফের আলোচনা শুরু করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *