জবিতে একের পর এক সংঘাত, উদ্বিগ্ন সাধারণ শিক্ষার্থীরা

আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে সম্প্রতি দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আবার নতুন ক্যাম্পাস ইস্যুতে অন্যদের সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রদল

এসব ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বারবার সংঘর্ষের পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতার

নতুন ক্যাম্পাস ইস্যুতে রক্তক্ষয়ী সংঘাত

দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের তিন দফা দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে জকসু, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্ট ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শাখা ছাত্রদলের সংঘর্ষ হয়। যা ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় অন্তত ৭০ জন আহত হন। 

পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হলেও প্রশাসনিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি

কনসার্ট ও নবীনবরণে মারামারি

জবি শাখা ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে মঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও মুস্তাফিজুর রহমান রুমির অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত তিনজন আহত হন। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।ক্যাম্পাসে গত ২০ সেপ্টেম্বর মারামারি দেখেছি। ছাত্রদল নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছে। কিন্তু আমরা তো ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকি, আমাদের তো নিজেদের সিকিউরিটির একটা ব্যাপার আছে। ওরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করলে ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে করুকউদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অস্ত্রের মহড়া

গত ২০ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন অনিকের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। স্টিলের পাইপ ও রড নিয়ে সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হন।

ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল দুপক্ষের আট নেতাকর্মীকে বহিষ্কার এবং নাহিয়ান বিন অনিককে শোকজ করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে গত ২০ সেপ্টেম্বর মারামারি দেখেছি। ছাত্রদল নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছে। কিন্তু আমরা তো ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকি, আমাদের তো নিজেদের সিকিউরিটির একটা ব্যাপার আছে। ওরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করলে ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে করুক।’

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, প্রশাসন এখানে কেন দৃষ্টি দেয় না!’ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, অস্ত্রের প্রদর্শন এবং যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে জকসু। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, নিরাপদ চলাচল ও মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জায়গা, কোনো ধরনের সংঘর্ষের জায়গা নয়। ঘটনার পর এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনকজকসুর বিবৃতি

গত ৪ আগস্ট সংঘর্ষের কারণে একাডেমিক ক্ষতির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ওই নারী শিক্ষার্থী। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, ‘৪ আগস্টের ঘটনায় আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। পরের দিন আমার এক্সাম (পরীক্ষা) ছিল। কিন্তু আমার ফ্যামিলি সেই সিকিউরিটি ফিল করে নাই যে আমাকে ক্যাম্পাসে আসতে দেবে। আমার মিডটার্ম এক্সাম ছিল, আমি সেটা দিতে পারিনি। এমনকি পরেও আমাকে মিড দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।’

আরও পড়ুন

জকসু স্বাস্থ্য সম্পাদকের ওপর হামলার অভিযোগ

জবিতে হামলার প্রতিবাদে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ, ৫ দফা দাবি

জবি, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন তাসিন বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসে ভয়ের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ২১ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে একটা গ্রুপ লাঠিসোঁটা নিয়ে শোডাউন দিয়েছে। ছাত্রলীগের আমলেও আমরা এমন দেখেছি। ভায়োলেন্সের (সহিংসতা) কালচার তৈরি করতে চায়।’

ক্যাম্পাসে সহিংসতার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা। ছাত্রদলের মারামারিতে আসলে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত। এদিকে প্রশাসনের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, ক্যাম্পাস ছাত্রদলকে ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং ভিসি ক্যাম্পাস ছেড়ে নিরুদ্দেশ। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন পর্যন্ত আমরা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখিনি। ছাত্রদলের সহিংসতা বন্ধ করে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে প্রশাসন ব্যর্থজাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখার সভাপতি শাহীন মিয়া

জকসুর এসজিএস মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, অস্ত্রের প্রদর্শন এবং যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে জকসু। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, নিরাপদ চলাচল ও মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জায়গা, কোনো ধরনের সংঘর্ষের জায়গা নয়। ঘটনার পর এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।’

বিবৃতিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।আমাদের প্রক্টরিয়াল বডি সতর্ক অবস্থায় থাকে। আমরা সব প্রক্টর মিলে সবসময় মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখছি। প্রশাসন থেকে মোটামুটি কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। আমরা শুধু ছাত্রনেতাদের ডেকে কথা বলেছি, শান্ত থাকতে বলেছি। আর তেমন কিছু তো আমাদের আর করার নেইপ্রক্টর অধ্যাপক ড. আযম খান

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জবি শাখার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খিজির আল সিফাত স্বাক্ষরিত প্রেসনোটে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের সন্দেহে কাউকে মারধর কিংবা সংঘর্ষের মাধ্যমে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

‘দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস ও সংঘর্ষের রাজনীতি’ বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের জন্য গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানায় সংগঠনটি।

জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখার সভাপতি শাহীন মিয়া বলেন, ‘ছাত্রদলের মারামারিতে আসলে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত। এদিকে প্রশাসনের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, ক্যাম্পাস ছাত্রদলকে ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং ভিসি ক্যাম্পাস ছেড়ে নিরুদ্দেশ। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন পর্যন্ত আমরা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখিনি। ছাত্রদলের সহিংসতা বন্ধ করে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে প্রশাসন ব্যর্থ।’আমরা প্রশাসনিকভাবে বসেছি। কোনো ধরনের সংঘর্ষ যাতে না হয়, সে বিষয়ে প্রক্টরিয়াল টিমকে যথাযথ নির্দেশ দিয়েছি। সহিংসতা প্রতিরোধে মোটামুটি কার্যকরভাবেই আমরা সব এঙ্গেলেই কথাবার্তা বলছিউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন

কী বলছেন ছাত্রদলের নেতারা

জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল এ বিষয়ে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দলমত-নির্বিশেষে সব সংগঠনকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা অতীতে যেমন ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখার স্বার্থেই শৃঙ্খলাপরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। মূলত একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সংসদ তখনই কোনো ইউনিটের নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করে, যখন ওই ইউনিটের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ কেন্দ্রকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা যেহেতু জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের আওতাধীন একটি ইউনিট, তাই নিজেদের বিরুদ্ধে আমরা বহিষ্কার আদেশ দিতে পারি না।

শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ও যুগ্ম আহ্বায়কের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক বলেন, যদি কারও ব্যক্তিগত স্বার্থে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, তবে সংগঠন অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। সংগঠনের কেউ যদি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কিংবা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংগঠনের বদনাম করে, তবে সংগঠন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আগামী দিনেও এ বিষয়ে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, আর দলের চেয়ে দেশ বড়, এই নীতিতে বিশ্বাস রেখে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ছাত্রদল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রশাসন কী করছে?

গত ২০ সেপ্টেম্বর সংঘর্ষের পর প্রক্টর অফিস থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী যেকোনো ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আযম খান বলেন, ‘আমাদের প্রক্টরিয়াল বডি সতর্ক অবস্থায় থাকে। আমরা সব প্রক্টর মিলে সবসময় মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখছি। প্রশাসন থেকে মোটামুটি কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। আমরা শুধু ছাত্রনেতাদের ডেকে কথা বলেছি, শান্ত থাকতে বলেছি। আর তেমন কিছু তো আমাদের আর করার নেই।’

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না এবং সংঘর্ষে জড়িত ছাত্রনেতাদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রক্টর বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে (ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ) পদক্ষেপ নেওয়াতে আমাদের আর তেমন একটা প্রয়োজন পড়েনি। আমরা কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। কেন্দ্রীয়ভাবে যেটা নিয়েছে, মোটামুটি সেটার ওপরেই আমরা নির্ভর করে আছি। এখান থেকে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘আমরা প্রশাসনিকভাবে বসেছি। কোনো ধরনের সংঘর্ষ যাতে না হয়, সে বিষয়ে প্রক্টরিয়াল টিমকে যথাযথ নির্দেশ দিয়েছি। সহিংসতা প্রতিরোধে মোটামুটি কার্যকরভাবেই আমরা সব এঙ্গেলেই কথাবার্তা বলছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *