রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় একটি জেন্টস সেলুনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে অন্তত ১০ জন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন। আজ বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) সকালের দিকে বংশালের আলু বাজার এলাকার একটি ব্যস্ত সেলুনে এই ভয়াবহ ও আকস্মিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দগ্ধদের মধ্যে সেলুনের ৫ জন কর্মরত কারিগর (হেয়ার ড্রেসার) এবং চুল-দাড়ি কাটাতে আসা ৫ জন সাধারণ গ্রাহক রয়েছেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দগ্ধদের উদ্ধার করে ঢাকার ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’-এর জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দগ্ধ ও আহতদের পরিচয়
ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধরা হলেন:
- গ্রাহকবৃন্দ: মো. ফারুক (৩৫), রিংকু (৩০), রনি (৩৬), জসিম (৪০) ও রফিক (২৫)।
- সেলুনের কারিগরবৃন্দ: সামশেদ (৩০), রাজু (৩৪), পাপ্পু (২৬), সাকিব (১৭) ও আরমান (৩৭)।
সকালে কাজ চলার সময় হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণ
বার্ন ইনস্টিটিউট ও আলু বাজারের স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতোই সেলুনটিতে কারিগরেরা গ্রাহকদের চুল ও দাড়ি কাটার কাজ করছিলেন। সকালের দিকে হঠাৎ করেই সেলুনের ভেতরে থাকা এসিটিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যেই পুরো সেলুনের ভেতরে আগুন ধরে যায় এবং কালো ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে পড়ে। সেলুনের সরু দরজা দিয়ে দ্রুত বের হতে না পারায় ভেতরে থাকা ৫ কর্মী ও ৫ জন গ্রাহক আগুনে ঝলসে ও দগ্ধ হন। আশপাশের লোকজন এসে সাটার ভেঙে এবং পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে দগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়।
১ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মুক্ত, ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান দগ্ধদের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে বলেন, “সেলুন দুর্ঘটনায় দগ্ধ মোট ১০ জন আমাদের এখানে এসেছিলেন। এদের মধ্যে গ্রাহক মো. ফারুকের শরীরের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া রিংকুর ২১ শতাংশ, রনির ১০ শতাংশ, জসিমের ৮ শতাংশ, রফিকের ১২ শতাংশ, সামশেদের ১৫ শতাংশ, রাজুর ১৮ শতাংশ, পাপ্পুর ১৮ শতাংশ এবং আরমানের ১৫ শতাংশ শরীর দগ্ধ হয়েছে।”
ডা. শাওন বিন রহমান আরও জানান, চিকিৎসাধীন দগ্ধদের শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দগ্ধদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী কিশোর কারিগর সাকিবকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ফারুক ও রিংকুসহ বাকি ৯ জনের দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এবং শারীরিক জটিলতার কারণে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গ্যাস লিকেজ বা এসির শর্ট সার্কিট থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
