সায়েন্স ল্যাবে শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় দিনের অবরোধ, অচল মিরপুর রোড: শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চের প্রস্তুতি

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবিতে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন এবার আরও তীব্র ও অবরুদ্ধ রূপ ধারণ করেছে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) দুপুরের পরীক্ষা শেষ হতেই রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান সংযোগস্থল সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় দ্বিতীয় দিনের মতো সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে ফেলেছেন বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিশাল ‘লংমার্চ’ (Long March) শুরুর প্রাক্কালে শত শত শিক্ষার্থী রাজপথে অবস্থান নেওয়ায় ওই রুটের সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুরো সায়েন্স ল্যাব এলাকায় জলকামান ও দাঙ্গা পুলিশসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে সরেজমিনে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা সিটি কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বের হয়ে সরাসরি দলে দলে এসে প্রধান সড়কে অবস্থান নিচ্ছেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়কের বিভিন্ন অংশে বসে পড়লে মিরপুর রোড, প্রগতি সরণি ও আজিমপুরগামী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে নিউ মার্কেট, ধানমন্ডি ও কলাবাগান এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যঙ্গাত্মক স্লোগানে উত্তাল রাজপথ, অনড় শিক্ষার্থীরা

অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে শিক্ষা প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান প্রতিধ্বনিত হতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা এ সময়— ‘দফা এক, দাবি এক— শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’, ‘তুমি কে, আমি কে— ফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে, কে বলেছে— শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী’ সহ নানা স্লোগানে পুরো সায়েন্স ল্যাব এলাকা উত্তাল করে তোলেন। আন্দোলনকারীদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সংবলিত বিভিন্ন দাবিনামা এবং প্ল্যাকার্ড শোভা পাচ্ছিল।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে দৈনিক রিপোর্টার বিডি-কে বলেন, “আমরা গতকালই স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলাম যে, আজ বুধবারের পরীক্ষা শেষে আমরা আমাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে লংমার্চ করব। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি মানার কোনো কার্যকর আশ্বাস এখনও আসেনি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”

ঢাকা সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, “দেশজুড়ে চলমান ভয়াবহ বন্যা ও চরম দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে জোর করে আমাদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে। আমরা চাই সরকার জেদ পরিহার করে আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো অবিলম্বে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করুক।”

আন্দোলনের নেপথ্যে পরীক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবি

এর আগে গতকাল মঙ্গলবারও (১৪ জুলাই) একই দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, নীলক্ষেত, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে দিনভর বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবারের এই লংমার্চ ও অবরোধের মূল ভিত্তি শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৩ দফা দাবি। দাবিগুলো হলো: ১. দেশে চলমান ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের চলমান সব পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা। ২. গত ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়া ও আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে দেশের যেসব কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেনি, তাদের জন্য বিশেষ কোশ্চেন সেটে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার (রি-এক্সামিন) সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করা। ৩. শিক্ষা খাতে চলমান এই চরম অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির দায় নিয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনতিবিলম্বে পদত্যাগ।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন এবং তাদের একটি বড় অংশ উত্তরার বিএনএস সেন্টারের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *