ময়মনসিংহের নান্দাইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক

ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ মোস্তফা (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযোগের পর শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার (১২ জুলাই) রাত পৌনে ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। এর আগে একই দিন দুপুরে নান্দাইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আমেদাবাদ মহল্লায় এ ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের অভিযোগ

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন শিশুটি বাড়িতে একা ছিল। এ সময় প্রতিবেশী মোহাম্মদ মোস্তফা তাকে নৌকায় ঘোরানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান।

সেখানে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।

পরিবারের দাবি, ঘটনার পর শিশুটি আহত অবস্থায় বাড়ির দিকে ফিরে আসে।

মায়ের বর্ণনা

শিশুটির মা জানান, তিনি কিছু সময়ের জন্য পাশের একটি বাড়িতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে মেয়েকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে তিনি শিশুটিকে আহত অবস্থায় বাড়ির দিকে আসতে দেখেন।

তিনি জানান, শিশুটিকে জিজ্ঞাসা করলে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং প্রতিবেশী মোস্তফার নাম উল্লেখ করে।

এরপর শিশুটিকে ঘরে নিয়ে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

লোকলজ্জার কারণে প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানাননি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে সন্ধ্যার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চিকিৎসকের বক্তব্য

নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আকরামুল্লাহ জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক জটিলতার কারণে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।

অভিযুক্ত আটক

নান্দাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সম্রাজ মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে এবং রবিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে অভিযুক্ত মোহাম্মদ মোস্তফাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিভিন্ন দিক তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তদন্ত অব্যাহত

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদন, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষ্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।

তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিশু সুরক্ষার গুরুত্ব

শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের প্রতি যেকোনো ধরনের যৌন সহিংসতা একটি গুরুতর অপরাধ এবং এর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও শারীরিক প্রভাব থাকতে পারে।

তারা মনে করেন, এমন ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখা, দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, মানসিক সহায়তা প্রদান এবং আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *