মৌসুম শুরুর আগেই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

সারাদেশে হাম পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও মৌসুম শুরুর আগেই বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।

রাজধানীর শিশু হাসপাতালগুলোতে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের পাশাপাশি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, দুটি রোগের প্রাথমিক উপসর্গ অনেকটাই এক ধরনের হওয়ায় শুরুতে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তবে সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, জ্বর, শরীরে দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা এবং ত্বকে র‍্যাশ—এসব লক্ষণ হাম ও ডেঙ্গু উভয় রোগেই দেখা দিতে পারে। তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা রোগীকে দ্রুত জটিল অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অনেক শিশুর ক্ষেত্রে প্রথমে হামের সন্দেহ করা হলেও পরীক্ষার পর ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। এ কারণে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি করানো উচিত। কারণ, রোগী শকে চলে গেলে জীবনহানির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

চিকিৎসকদের আরও পর্যবেক্ষণ, হামে আক্রান্ত অনেক শিশু একই সঙ্গে অ্যাডেনোভাইরাস, বোকাভাইরাস, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং শ্বাসকষ্টেও আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হচ্ছে।

হাম ও ডেঙ্গুর মধ্যে পার্থক্য বোঝাতে চিকিৎসকরা জানান, হামে সাধারণত মুখ থেকে র‍্যাশ ছড়াতে শুরু করে। অন্যদিকে ডেঙ্গুতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। এ তথ্য রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের সহায়তা করে।

এদিকে চলতি বছর সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে মশার বিস্তার রোধ, বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *