টানা বৃষ্টিতে ফরিদপুরে সড়ক ধস, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণের কারণে ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী হাটসংলগ্ন পিয়াজখালী-চন্দ্রপাড়া সড়কের একটি বড় অংশ ধসে গেছে। এতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াজখালী বাজার থেকে চন্দ্রপাড়া হয়ে ফরিদপুর-তাড়াইল সড়কের সঙ্গে যুক্ত এই সড়কটি এই অঞ্চলের একমাত্র ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের মাধ্যম। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের হালকা ও ভারী যানবাহন এই সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করে। এ ছাড়া পিয়াজখালী এলাকার শয়তানখালী ঘাট ও বলাশিয়া ঘাট থেকে বিভিন্ন কাঁচামাল ও বাণিজ্যিক পণ্য দূর-দূরান্তে পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি প্রধান ভূমিকা পালন করে।

যেকোনো মুহূর্তে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা

সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সড়কটির একটি বড় অংশ ধসে পার্শ্ববর্তী নিচু জমিতে বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট যে সামান্য অংশটুকু টিকে রয়েছে, তাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং ভারী যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্যও তা নিরাপদ নয়। যেকোনো মুহূর্তে সড়কটির বাকি অংশটুকুও ধসে পড়তে পারে।

এতে পুরো সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সড়কসংলগ্ন ও সড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি পাকা দোকানঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও এখন ধসের মুখে রয়েছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

‘দ্রুত সংস্কার না হলে আমাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে’

স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ দৈনিক রিপোর্টার বিডি-কে বলেন, “কয়েক দিনের টানা অতিবৃষ্টির কারণে সড়কটির নিচের মাটি ধসে গেছে। এখনই যদি ভাঙন রোধে দ্রুত বালুর বস্তা বা স্থায়ী গাইডওয়াল দিয়ে সংস্কার করা না হয়, তবে যেকোনো সময় এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এতে সাধারণ মানুষ ও যাত্রীবাহী যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগের আর কোনো সীমা থাকবে না।”

দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে অটোরিকশাচালক সালাম শেখ বলেন, “আমরা বলাশিয়া ঘাট থেকে বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও মালামাল এই সড়ক দিয়েই পিয়াজখালী হাটে আনা-নেওয়া করি। রাস্তাটি যদি পুরোপুরি ধসে বন্ধ হয়ে যায়, তবে আমাদের গাড়ি চালানো বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হব। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত এখানে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস প্রশাসনের

সড়কটির এই বেহাল দশা নিয়ে ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, “এটি এই এলাকার একটি দুঃখজনক নিয়মিত চিত্র। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই এই নির্দিষ্ট স্থানটিতে রাস্তা ভেঙে যায়। আমরা সাময়িকভাবে তা মেরামত করলেও বর্ষায় তা টিকছে না। বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যে সদরপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তাঁরা স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।”

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ দৈনিক রিপোর্টার বিডি-কে বলেন, “সড়ক ধসের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি এবং ইতিমধ্যেই আমাদের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এবার আর কোনো অস্থায়ী জোড়াতালি নয়; স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই সমস্যা আর না হয়। আশা করছি, খুব দ্রুতই সেখানে স্থায়ী গাইডওয়াল ও সড়ক টেকসইভাবে সংস্কারের কাজ শুরু করা যাবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *