ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়ে। বাংলাদেশ সময় রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ২টায় নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই। ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ম্যাচটির সম্ভাব্য ফল, জয়ের সম্ভাবনা এবং সম্ভাব্য গোলদাতাদের নিয়ে পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে।
বিভিন্ন পরিসংখ্যান, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, স্কোয়াডের শক্তিমত্তা, সম্ভাব্য একাদশ এবং সামগ্রিক ম্যাচ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এআই ব্রাজিলকে এগিয়ে রেখেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৫৮ শতাংশ। অন্যদিকে নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২০ শতাংশ এবং ম্যাচটি ৯০ মিনিটে ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২২ শতাংশ।
এআইয়ের সম্ভাব্য স্কোরলাইন অনুযায়ী, ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে জিততে পারে ব্রাজিল। সম্ভাব্য গোলদাতাদের তালিকায় রয়েছেন ব্রাজিলের দুই তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও নেইমার। তাদের একজন করে গোল করার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে নরওয়ের হয়ে গোল করতে পারেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।
বিশ্লেষকদের মতে, আক্রমণভাগে ব্রাজিলের বৈচিত্র্য, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তাদের এগিয়ে রাখছে। অন্যদিকে নরওয়ের শক্তি মূলত দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ এবং হালান্ডকে ঘিরে গড়ে ওঠা আক্রমণভাগ। ফলে ম্যাচের যেকোনো মুহূর্তে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে সক্ষম।
তবে কাগজে-কলমে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও ইতিহাস তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। বিশ্বকাপের আসরে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিল কখনও জয়ের মুখ দেখেনি। অতীতের পরিসংখ্যান বলছে, নরওয়ে সবসময়ই ব্রাজিলের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সেই কারণে এবারও সহজ ম্যাচের আশা করছে না ফুটবল বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নরওয়ে যদি নিজেদের রক্ষণকে সংগঠিত রাখতে পারে এবং হালান্ডকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে, তাহলে ব্রাজিলকে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হতে পারে। অন্যদিকে ব্রাজিল যদি শুরু থেকেই বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারে, তাহলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একটি ছোট ভুলও বড় মূল্য ডেকে আনতে পারে। তাই উভয় দলই সতর্ক ও পরিকল্পিত ফুটবল খেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ব্রাজিলের অভিজ্ঞতা এবং তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড তাদের এগিয়ে রাখলেও নরওয়ের আত্মবিশ্বাস ও লড়াকু মানসিকতা ম্যাচটিকে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্লেষণ ব্রাজিলের পক্ষে থাকলেও ফুটবল এমন এক খেলা, যেখানে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। তাই বিশ্বকাপের এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে, তার উত্তর মিলবে মাঠের ৯০ মিনিট কিংবা প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারের লড়াই শেষে।
