ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিয়েছেন তার তিন ছেলে—মোস্তফা হোসেইনি খামেনি, মাসউদ হোসেইনি খামেনি এবং মেইসাম হোসেইনি খামেনি। রোববার (৫ জুলাই) রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত জানাজায় তারা বাবার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে নামাজে অংশ নেন এবং শেষ শ্রদ্ধা জানান।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো তার তিন ছেলেকে জনসমক্ষে দেখা গেল। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানজুড়ে বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
তবে জানাজায় উপস্থিত ছিলেন না খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকারী মোজতবা খামেনি। তার অনুপস্থিতি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, খামেনির কফিনের পাশে তার তিন ছেলে দাঁড়িয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। কিন্তু অনুষ্ঠানের কোথাও মোজতবা খামেনিকে দেখা যায়নি।
মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এসব বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন সর্বোচ্চ নেতার এমন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
এর আগে খামেনির মৃত্যু-পরবর্তী সময়ে তার পরিবারের সদস্যদের জনসমক্ষে খুব কমই দেখা গেছে। ফলে এবারের রাষ্ট্রীয় জানাজায় তিন ছেলের উপস্থিতি এবং মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হচ্ছে।
ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় এই শোকানুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন। কয়েক দিনব্যাপী চলা এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়াত নেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ বিদায় জানানো হচ্ছে।
