ক্রোয়েশিয়ার শেষ মুহূর্তের গোল কেন বাতিল? বিতর্কের পর ব্যাখ্যা দিল ফিফা

বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতাসূচক গোল করে উল্লাসে মেতে উঠেছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল ঘোষণা করলে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায় লুকা মদ্রিচদের।

গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে ঘিরে ম্যাচ শেষে মাঠে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। টেলিভিশনের রিপ্লেতে স্পষ্ট কোনো অফসাইড কিংবা দৃশ্যমান বল স্পর্শ ধরা না পড়ায় অনেক ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষক প্রশ্ন তোলেন, কী ভিত্তিতে এই গোল বাতিল করা হলো।

বিতর্কের পর বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

ফিফার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় পর্তুগালের ডিফেন্ডার রেনাতো ভেগার কাছ থেকে বল ইভান পেরিসিচের কাছে আসে। এরপর পেরিসিচ সতীর্থ মারিও পাসালিচের উদ্দেশে বল বাড়িয়ে দেন। তবে বলটি পাসালিচের কাছে পৌঁছানোর আগেই ক্রোয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড ইগর মাতানোভিচের পায়ে অতি সামান্য স্পর্শ লাগে।

ফিফা জানায়, এই স্পর্শ এতটাই সূক্ষ্ম ছিল যে খালি চোখে কিংবা সাধারণ টেলিভিশন রিপ্লেতে তা বোঝা সম্ভব হয়নি। তবে ভিএআরের উন্নত প্রযুক্তি ও একাধিক ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের বিশ্লেষণে বলের ওই স্পর্শ শনাক্ত করা হয়। সেই স্পর্শের কারণেই অফসাইড পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং ফুটবলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী গোলটি বাতিল করা হয়।

ফিফার এই ব্যাখ্যার পর গোল বাতিলের প্রযুক্তিগত কারণ স্পষ্ট হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেক সমর্থক প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানালেও, কেউ কেউ মনে করছেন এমন সূক্ষ্ম স্পর্শের কারণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হওয়া ফুটবলের আবেগকে ক্ষুণ্ন করে।

গোলটি বাতিল হওয়ায় ম্যাচে আর সমতায় ফিরতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। ফলে পর্তুগালের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় লুকা মদ্রিচদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *