দাম কমেছে কাগজে, বাজারে নয়! নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস

আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কমায় সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছিল। তবে মাঠপর্যায়ের ভিন্ন চিত্রের কারণে সেই স্বস্তি এখনো সাধারণ ভোক্তার ঘরে পুরোপুরি পৌঁছায়নি। সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেকটাই বেশি।

টানা দুই দফায় ৫৯৯ টাকা বাড়ার পর গত দুই মাসে দুই দফায় মোট ৪১২ টাকা কমানো হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই দর ঘোষণা করেন কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কাঁচামালের দাম কমায় দেশের বাজারেও সেই অনুযায়ী মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জুলাই মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৮৮৫ টাকা থেকে ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা করা হয়েছে।

তবে কাগজে-কলমে এই মূল্যহ্রাসের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজধানীর বসিলাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, খুচরা দোকানদাররা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০ থেকে প্রায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

বসিলা এলাকার বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু দোকানে গেলে ১ হাজার৬০০ বা ১ হাজার ৭০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ যদি এর সুফল না-ই পায়, তবে এমন ঘোষণার লাভ কী?”

আমিরুল ইসলামের এই অভিযোগের সত্যতা মেলে স্থানীয় খুচরা বাজার ঘুরেও। তবে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয়ে খুচরা বিক্রেতাদের নিজস্ব যুক্তি রয়েছে। এক দোকানি দাবি করেন, “নতুন দামের সিলিন্ডার এখনো আমাদের কাছে পৌঁছায়নি, আগের বেশি দামের কেনা চালানের মাল রয়ে গেছে। এছাড়া দোকানে মাল আনা এবং গ্রাহকের বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া ও শ্রমিক খরচ রয়েছে। নতুন চালান এলে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে।”

নাবিল নামের আরেকজন ক্রেতা জানান, বাজারে নিয়মিত তদারকি বা নজরদারির অভাবই এই অনিয়মের প্রধান কারণ। সরকার যখন প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম ঠিক করছে, তখন তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

ভোক্তা সাধারণের দাবি, শুধু সংবাদ সম্মেলন করে দাম ঘোষণা করলেই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না। এলপি গ্যাসের বাজারে নৈরাজ্য বন্ধ করতে এবং সরকারের এই মূল্যহ্রাসের প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *