দেশের মেধা, সৃজনশীলতা এবং তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক ও স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে তরুণ উদ্যোক্তা এবং সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোর (Startups) প্রতি সর্বাত্মক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “নতুন কিছু করার বা নতুন কোনো উদ্যোগ শুরু করার পথটি কখনোই সহজ নয়; এটি অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিকূলতায় ভরা। তবে তরুণদের যদি সুদৃঢ় ইচ্ছা ও সংকল্প থাকে, তবে তারা অবশ্যই সফল হবে। আর তাদের এই স্বপ্নযাত্রাকে সফল করতে বর্তমান সরকার তার রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ শক্তি ও লজিস্টিক সুবিধা নিয়ে উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে।”
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী নবাব আলী চৌধুরী সিনেট হলে আয়োজিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক কথা বলেন। দেশের যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান, সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি
সেমিনারে উপস্থিত নতুন ও সম্ভাব্য তরুণ উদ্যোক্তাদের সরাসরি উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আপনারা যারা এখানে নতুন উদ্যোক্তা বা সম্ভাব্য স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করছেন, যারা নতুন আইডিয়া নিয়ে সাহস করে এগিয়ে আসতে চাচ্ছেন এবং দেশের জন্য কিছু করতে চাচ্ছেন—আপনাদের উদ্দেশ্যে আমি শুধু একটা কথাই স্পষ্ট করে বলতে চাই, আপনারা যে কাজটি করতে চাইছেন তা মোটেও সহজ নয়, এটি অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু আপনার মধ্যে যদি অদম্য ইচ্ছা এবং সততা থাকে, তবে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি জয় করা আপনার পক্ষে সম্ভব।”
তিনি তরুণদের আশ্বস্ত করে আরও বলেন, “নতুন একটি উদ্যোগ দাঁড় করাতে গিয়ে আপনাদের অনেক সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে সরকারের বর্তমান অবস্থান থেকে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি—আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে। আপনাদের আইডিয়াগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে, অর্থায়নের পথ সহজ করতে এবং সঠিক দিকনির্দেশনা বা গাইডলাইন দিয়ে পথ দেখানোর জন্য আমাদের সরকার সার্বক্ষণিক কাজ করছে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সীমাবদ্ধতার মধ্যে দাঁড়িয়ে আমরা হয়তো কতটুকু পারবো তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না, কিন্তু এটুকু নিশ্চিত করছি—আমরা আছি এবং যতটুকু পারবো আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।”
‘নিজেদের জন্য নয়, দেশের লাখো-কোটি মানুষের জন্য আপনাদের প্রয়োজন’
তরুণদের মেধার মূল্যায়ন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই ডিজিটাল ও উদ্ভাবনী যুগে তরুণ উদ্যোক্তারা শুধু নিজেদের ব্যক্তিগত ভাগ্যোন্নয়নের জন্য কাজ করছেন না; বরং তারা দেশের লাখো-কোটি মানুষের ভাগ্য বদলের কারিগর। তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবন, ব্যবসায়িক উদ্যোগ ও সৃজনশীলতা বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং বেকারত্ব দূরীকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, “আপনারা আজকে যারা নতুন উদ্যোক্তা হয়েছেন, যারা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কিংবা ইতিমধ্যে সফল হয়ে এগিয়ে গিয়েছেন এবং নিজেদের কাজের মাধ্যমে মানুষ, সমাজ ও সামগ্রিকভাবে দেশের বড় কল্যাণ করছেন—এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের আপনাদের অত্যন্ত প্রয়োজন। নিজেদের বৈষয়িক স্বার্থের জন্য আপনাদের প্রয়োজন না, আপনাদের প্রয়োজন দেশের লাখো-কোটি বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের জন্য, আপনাদের প্রয়োজন এই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব টেকসই করার জন্য।”
জীবনের ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও আগামীর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা
বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সংগ্রামের স্মৃতি চারণ করেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “একটি দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অবর্ণনীয় রাজনৈতিক অপমান এবং নানামুখী চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমাকে ধৈর্য ধরে এগিয়ে আসতে হয়েছে। জীবনের সেই কঠিনতম বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই আমি আজ দেশের তরুণ সমাজকে বলতে চাই—কঠিন সময়েও কখনো হাল ছেড়ে দেবেন না। অন্ধকার যত গভীর হয়, আলোর সকাল ততটাই নিকটবর্তী হয়।”
দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা উদ্ভাবনী বা ইনোভেশন মেলা, বিজ্ঞানমনস্ক আয়োজনে স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং তরুণ স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের বিশ্বমানের প্রযুক্তিগত কাজ দেখে আমার ভেতরের আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেম আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, এই অত্যন্ত মেধাবী ও দেশপ্রেমিক আগামী প্রজন্মই খুব শিগগিরই বাংলাদেশের সার্বিক নেতৃত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেবে এবং দেশকে উন্নয়নের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞ এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় স্টার্টআপ মেন্টররা এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
