দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৯টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রকাশিত পৃথক দুটি আবহাওয়া বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ৩টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারি (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারি (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, টানা ভারি বৃষ্টির কারণে বিশেষ করে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। তাই পাহাড়ের পাদদেশ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় মাটির স্থিতিশীলতা কমে যায়। ফলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে বুধবার (৮ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকাসহ ১৯টি জেলার ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ সময় বজ্রপাতসহ বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমে সাগর ও স্থলভাগের তাপমাত্রার পার্থক্য এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে নৌযান, মাছ ধরার ট্রলার এবং ছোট নৌকাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে নগরবাসীকে অপ্রয়োজনে খোলা জায়গায় অবস্থান না করা, বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার এবং ঝোড়ো বাতাসের সময় বড় গাছ কিংবা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে আশ্রয় না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নগর এলাকায় জলাবদ্ধতা, পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস এবং নদীপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও আগের তুলনায় বেড়েছে।
এ অবস্থায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
