ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্গঠন (রিকনস্ট্রাকশন) করার সময় তিনি পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়।
এদিকে একই মামলায় কবীর মোল্লা নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নতুন এই গ্রেপ্তারের ফলে আলোচিত এ মামলায় মোট গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে তদন্তকারী দল প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় যায়। সেখানে ঘটনার বিভিন্ন দিক যাচাই এবং অপরাধ সংঘটনের ধারাবাহিকতা পুনর্গঠনের কাজ চলছিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, এ সময় প্রভাস মণ্ডল হঠাৎ এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রভাস মণ্ডলকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে একটি সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে। ওই ফুটেজে প্রভাস মণ্ডলকে নিহত কিশোরীর সঙ্গে হেঁটে যেতে দেখা যায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এরপর প্রযুক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। তদন্তকারীদের ভাষ্য, অভিযুক্তের দেওয়া তথ্য মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে একই মামলায় কবীর মোল্লা নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে মামলার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশি অভিযানে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী পৃথক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মূল মামলার তদন্তও স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া জরুরি, যাতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মামলার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
