আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রেফারিং বিতর্ক, ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মিসরের

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় পরাজয়ের পর ম্যাচ পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করা রেফারির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। ম্যাচে একসময় ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হারার পর রেফারির একাধিক সিদ্ধান্তকে ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেছে মিসর।

ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলের লিড ধরে রেখেছিল মিসর। তবে শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে তিনটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করে মিসর শিবির।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মিসরের প্রধান কোচ হোসেম হাসান অভিযোগ করেন, ম্যাচে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। তার দাবি, আর্জেন্টিনা এবং দলটির তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে এগিয়ে রাখতেই রেফারির পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত দেখা গেছে।

তিনি বলেন, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে নেওয়া কয়েকটি সিদ্ধান্ত মিসরের বিপক্ষে গেছে এবং সেগুলোই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে।

অন্যদিকে দলের ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকোও রেফারির তীব্র সমালোচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাকে ‘জালিম’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার দ্বারস্থ হয় মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ফেডারেশনের যোগাযোগবিষয়ক প্রধান মোহাম্মদ মোরাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার ম্যাচ পরিচালনাকারী ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং তার সহকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ম্যাচ পরিচালনার সময় একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নিরপেক্ষ রেফারিংয়ের প্রশ্ন তুলেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফিফার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদাও ফিফার কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং তার সহকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে তাদের দায়িত্ব না দেওয়ারও অনুরোধ করেন তিনি।

তার অভিযোগ, ম্যাচের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত মিসরকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে এবং সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

মিসরের আপত্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। প্রথমত, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার মাধ্যমে মিসরের একটি গোল বাতিল করা হয়, যা দলটির মতে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

দ্বিতীয়ত, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের ফাউলের অভিযোগ তুলে পেনাল্টির দাবি জানানো হলেও সেই ঘটনাটি ভিএআরে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়নি। মিসরের দাবি, আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভিএআর ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই হলো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ না দেওয়ায় ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব পড়েছে।

এদিকে ম্যাচ-পরবর্তী বিতর্ক নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাটি অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ফুটবলে ভিএআর প্রযুক্তি চালুর উদ্দেশ্য ছিল বিতর্ক কমানো এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা। তবে ভিএআর ব্যবহারের পদ্ধতি কিংবা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এটি ব্যবহার না করার কারণে এখনও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।

মিসরের এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে ফিফা কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *