মাটির নিচে লুকানো ১১ ভরি স্বর্ণ চুরি, সিসিটিভির সূত্রে টাইলস মিস্ত্রি গ্রেফতার

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মুন্দা গ্রামে এক কুয়েত প্রবাসীর বাড়িতে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা প্রায় ১১ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণালঙ্কার চুরির ঘটনায় এক টাইলস মিস্ত্রিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের একটি বড় অংশ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে গাংনী থানা ও বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া বারাদি এলাকা থেকে আলাল খান (২২) নামে ওই টাইলস মিস্ত্রিকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কলেজপাড়া এলাকায় পলাতক আরেক আসামি মোমিন খানের শ্বশুরবাড়ি থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার আলাল খান কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া বারাদি গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল স্বর্ণালঙ্কার

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্দা গ্রামের বাসিন্দা শাহীন দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতে কর্মরত। তার অনুপস্থিতিতে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করেন বৃদ্ধা মা নার্গিস বানু ও দুই বোন।

নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নার্গিস বানু নিজের এবং দুই মেয়ের ব্যবহৃত স্বর্ণালঙ্কার—নেকলেস, চুড়ি, কানের দুল, চেইন, আংটিসহ প্রায় ১১ ভরি ১৪ আনা ওজনের গয়না একটি প্লাস্টিকের কৌটায় ভরে পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পূর্ব পাশের সিঁড়ির নিচে মাটির নিচে পুঁতে রাখেন।

সম্প্রতি বাড়িতে টাইলস বসানোর কাজ শুরু হলে পাঁচজন মিস্ত্রি সেখানে কাজ করছিলেন।

সিসিটিভিতে ধরা পড়ে চুরির দৃশ্য

গত রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে কাজ শেষে মিস্ত্রিরা চলে যাওয়ার পর নার্গিস বানু মাটির নিচে রাখা গয়নার কৌটা পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন সেটি নেই।

ঘটনার বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কুয়েতে থাকা ছেলে শাহীনকে জানান। এরপর শাহীন ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেন।

ফুটেজে দেখা যায়, কাজ করার সময় এক মিস্ত্রি মাটি খুঁড়ে গয়নার কৌটা বের করে কৌশলে আরেক সহকর্মীর হাতে তুলে দেন। পরে দুজন দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয়রা অভিযুক্তদের কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাসিন্দা মোমিন খান (৩৬)আলাল খান (২২) হিসেবে শনাক্ত করেন।

মামলা ও পুলিশের অভিযান

ঘটনার পর প্রবাসীর মা নার্গিস বানু বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে আলাল খানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের একটি বড় অংশ উদ্ধার করা হয়।

তবে মামলার অপর আসামি মোমিন খান এখনও পলাতক রয়েছেন।

পুলিশের বক্তব্য

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ জানান, সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোর শনাক্তের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই স্বর্ণালঙ্কারের একটি বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারে আমাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *