বেলিংহ্যামের চোখে হ্যারি কেনই ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা

উয়েফা নেশনস লিগে চেকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন হ্যারি কেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চেকিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচটি ছিল ইংল্যান্ডের জার্সিতে কেনের ১২৫তম ম্যাচ, তাতে তিনি স্পর্শ করেছেন পিটার শিলটনের রেকর্ড।  বিশেষ এই ম্যাচে তিনি দুটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখেন।

৩৩ বছর বয়সী কেনের আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা এখন ৯১। আগামী নভেম্বরেই তার সামনে সুযোগ ইংল্যান্ডের পুরুষ দলের হয়ে এককভাবে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড নিজের করে নেয়ার। শিলটনের রেকর্ড ছোঁয়ার দিনে কেন সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি পেয়েছেন সতীর্থ জুড বেলিংহ্যামের কাছ থেকে।  বেলিংহ্যামের মতে, ইংল্যান্ডের জার্সি আর কেউ কেনের চেয়ে ভালোভাবে উপস্থাপন করেননি। কেনকেই ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার। 

বেলিংহ্যাম বলেন, ‘সত্যি বলতে, সে এখন যা-ই করুক না কেন, আমাকে আর অবাক করে না। সে অসাধারণ একজন আদর্শ, অসাধারণ একজন মানুষ। তার সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নিতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, সে যা কিছু অর্জন করে, তার সবই প্রাপ্য। সে এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করে এবং সে খুবই সৎ একজন মানুষ। আমি জানি, আজ সে দুটি গোল করেছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সে পিটার শিল্টনের রেকর্ডে সমতা এনেছে।’

বেলিংহ্যাম এরপর বলেন, ‘আমার কাছে, সে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। সে অসাধারণ একজন আদর্শ, একজন দারুণ মানুষ এবং প্রতিদিনই তার কাছ থেকে কিছু না কিছু শেখা যায়।’ 

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মের পর এবারের ক্যাম্পেও অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে বেলিংহ্যাম নিজেও ইংল্যান্ডের সেরাদের আলোচনায় থাকার পথে রয়েছেন। ২৩ বছর বয়সী বেলিংহ্যাম কেন, বুকায়ো সাকা ও অ্যান্থনি গর্ডনের সঙ্গে ইংল্যান্ডের রোমাঞ্চকর আক্রমণভাগের অংশ। মরগ্যান রজার্সও ধীরে ধীরে এই আক্রমণভাগে নিজের জায়গা করে নিচ্ছেন।

ইংল্যান্ড ঘরের মাঠ ও অ্যাওয়ে দুই ম্যাচে চেকিয়া এবং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় পেয়েছে। এই তিন ম্যাচে তাদের মোট গোলের ব্যবধান ছিল ১২-০। এছাড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষেও তারা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে, যদিও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরেছে।

চার ম্যাচের দীর্ঘ এই ক্যাম্প নিয়ে কিছু সমালোচনা হলেও বেলিংহ্যামের মতে, এটি দলকে আরও ভালোভাবে একসঙ্গে খেলতে সাহায্য করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, দীর্ঘ ক্যাম্পে আমরা একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং একসঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাই। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব মাঠেও দেখা যায়। কখনো কখনো মাত্র দুটি ম্যাচ থাকলে ছন্দে আসা কঠিন হয়। যখন ছন্দটা খুঁজে পাওয়া যায়, তখনই আবার সবাই আলাদা হয়ে যায়। এবার ভালো লেগেছে। সত্যিই, সত্যিই ভালো।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *