তেহরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ‘আশা করা যায়, শেষের দিকে’ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আবারও দাবি করেছেন, ইরান চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই কথা বলেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইরানের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা পেয়েছেন কি না—এক সাংবাদিক জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে ‘সরাসরি’ কথা বলেছেন।

এদিকে, ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং ইরানের সামরিক বাহিনীর বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চললেও মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা রেখেছে। এর মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে শত শত মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহনেও সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গতকাল বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ইউএস নেভির ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ‘অব্যাহত রয়েছে।’ একই সঙ্গে ইরান জলপথটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এমন দাবি তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর কার নিয়ন্ত্রণ বেশি, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিজেদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি করে চলেছে। আল জাজিরার সাংবাদিক টম ম্যাকরের কাছে হকিন্স বলেন, ‘মে মাসের শুরু থেকে আমরা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৯০০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছি।’

এদিকে প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে নামকরণ করা একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়েছে। বিলটির মাধ্যমে ইরান ও রাশিয়ার ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করে দেশ দুটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব–২০২৬’ নামে বিলটি গ্রাহাম নিজেই উত্থাপন করেছিলেন। গত মাসে সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়।

আইনটির মূল লক্ষ্য রাশিয়া হলেও এতে ১৯৯৬ সালের ইরান স্যাংশনস অ্যাক্ট ও বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ওই আইনটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। ১৯৯৬ সালের আইনটির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন আইনের মাধ্যমে এর মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে।

ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েক ডজন প্রতিনিধি দলীয় অবস্থান থেকে সরে এসে অধিকাংশ রিপাবলিকান সদস্যের সঙ্গে বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর ফলে বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে তিনি এতে স্বাক্ষর করে এটিকে আইনে পরিণত করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *