জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ ভোজ বা ফিস্টে পচা ও নিম্নমানের খাবার বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ, অসন্তোষ ও রক্তক্ষয়ী হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান সহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
গতকাল বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস হলের প্রাঙ্গণে এ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
খাবারের মান নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিতুমীর হল, বিজয় দিবস হল, স্বাধীনতা দিবস হল, বনলতা হল ও অপরাজিতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফিস্টের বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল।
খাবার পরিবেশন শুরুর পরই শিক্ষার্থীরা খাবারের অতি নিম্নমান দেখে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিতুমীর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাকিউল আলম রানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এত বাজে ও নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়েছিল যা মুখে নেওয়াই অসম্ভব। পরিবেশন করা বেশিরভাগ ডিমই ছিল দুর্গন্ধযুক্ত পচা এবং ডালের পাত্রের মধ্যে মুরগির নাড়িভুঁড়ি পাওয়া গেছে। একটি বিশেষ দিনে এমন জঘন্য খাবার পরিবেশনের তীব্র প্রতিবাদ ও বিচার চাই।”
বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি ও মারধর
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খাবারের মান নিয়ে হল প্রাতিষ্ঠানিক চত্বরে প্রথমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি ও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
ঘটনার খবর পেয়ে বিষয়টি উপাচার্যের দপ্তরে অভিযোগ জানাতে গেলে সেখানে উপস্থিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের শান্ত হতে বলেন এবং খাবারের মান নিয়ে কিছুটা ইতিবাচক মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একাংশ তাকে সরাসরি চড়-থাপ্পড় ও মারধর শুরু করে। এতে তিনি শারীরিক আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও হল প্রভোস্টরা দ্রুত উপস্থিত হয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ ও তদন্তের আশ্বাস দিলে গভীর রাতে পরিবেশ শান্ত হয়।
হল প্রশাসন ও উপাচার্যের বক্তব্য
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাধীনতা দিবস হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, “পাঁচটি হলেরই খাবারের নিম্নমান নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে দু’পক্ষের হাতাহাতি ও বাকবিতণ্ডার সংবাদ আমরা পেয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি, তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ পেলেই তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হলের খাবারে অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির বিষয়টি আমি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি। একটি গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ঘটনাটি খতিয়ে দেখে খাবারের দায়ে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি শান্ত পরিবেশ বিনষ্টকারী ও মারধরে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসা হবে।”
