বরাবরই বিষয়বস্তু ও বিষয়ভিত্তিক গল্পনির্ভর সিনেমায় ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন। ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ কিংবা ‘খুফিয়া’-র পর বাঁধনকে ঘিরে রূপালী পর্দার দর্শকদের প্রত্যাশার পারদটাও ছিল অনেক উঁচুতে। তবে সম্প্রতি চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক মো. ইকবালের নির্মিতব্য ‘গুলশানের চামেলি’ চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা। অনেক অনুরাগী মন্তব্য করছেন, বাণিজ্যিক ধারার এই ছবিতে যুক্ত হয়ে বাঁধন তাঁর পূর্বের স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।
অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সুদীর্ঘ ও স্পষ্ট বার্তা দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এবং সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
‘উপদেশ দিতে আসবেন না, আমার জীবনে সম্মান করার মতো মানুষ আছে’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে সমালোচকদের প্রতি সরাসরি বার্তা দিয়ে বাঁধন লেখেন, “একটা বিষয় আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—আমার সংসারের খরচ তো কেউ বহন করে দেয় না, আর আমার জীবনটাও অন্য কেউ যাপন করে না। সুতরাং, দয়া করে আপনাদের মূল্যবান সময় অপচয় করে আমাকে উপদেশ দিতে আসবেন না। যাদের উপদেশ আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি ও মন থেকে সম্মান করি, সেরকম মানুষ আমার ব্যক্তিগত জীবনে যথেষ্ট রয়েছে।”
‘গুলশানের চামেলি’ চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়ার নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে এই অভিনেত্রী আরও উল্লেখ করেন, “এই সিনেমায় কাজ করতে রাজি হওয়াটা আমার জন্য মোটেও সহজ কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না; বেশ কঠিন ছিল। কিন্তু সিনেমাটির মূল গল্পটা আমার খুব ভালো লেগেছে। সবচেয়ে বড় কথা, কাজের শুরু থেকেই পুরো টিমের কাছ থেকে যে পেশাদারি সম্মান ও অভূতপূর্ব সহযোগিতা পেয়েছি, তা আমাকে সত্যিই গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে।”
দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও নিজের জীবনের তুষ্টি
নিজের অভিনয় জীবনের দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বাঁধন লিখেছেন, “এত বছরের অভিনয় ক্যারিয়ারে আমি অসংখ্য ভিন্ন মানসিকতার নির্মাতা ও প্রযোজকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। প্রতিটি কাজ থেকেই আমি নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এর মধ্যে কিছু কাজ খুব ভালো ছিল, কিছু ছিল বেশ কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। তবে এই সমস্ত ভালো-মন্দের অভিজ্ঞতা মিলেই কিন্তু আজকের ‘আজমেরী হক বাঁধন’ গড়ে উঠেছে।”
নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে অত্যন্ত সুখী উল্লেখ করে পোস্টের শেষাংশে তিনি আশা প্রকাশ করে লেখেন, “আমি আমার জীবন নিয়ে অত্যন্ত সুখী ও শান্তিতে আছি। ইনশাআল্লাহ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি আমার মতো করে সামনে এগিয়ে যাব এবং আরও বেশি সুখী হব।”
এক যৌনকর্মীর জীবনসংগ্রাম ও ‘গুলশানের চামেলি’র গল্প
সিনেমাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সমাজের প্রান্তিক এক যৌনকর্মীর জীবনসংগ্রাম, দুঃখ-বেদনা ও জটিল বাস্তবতা ঘিরে গড়ে উঠেছে ‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমার মূল প্রেক্ষাপট। সিনেমাটিতে নামভূমিকায় অভিনয় করছেন পশ্চিমবঙ্গের পরিচিত মুখ ও অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার।
পরিচালক মো. ইকবালের এই চলচ্চিত্রে বাঁধনের পাশাপাশি আরও একঝাঁক প্রথম সারির তারকাদের অভিনয় করতে দেখা যাবে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চিত্রনায়িকা রোজিনা, ওমর সানী, খল অভিনেতা মিশা সওদাগর, আশীষ খন্দকার ও মুকিত জাকারিয়াসহ অনেকে। দ্রুতই সিনেমাটির মূল দৃশ্যধারণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
