রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে এলে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার (২ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এসব কথা জানান।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দ্রুত ও দৃশ্যমান অগ্রগতির তাগিদ
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ে বলেন, “বাংলাদেশ থেকে দেওয়া রোহিঙ্গা তালিকার সুনির্দিষ্ট যাচাই-বাছাই (Verification) প্রক্রিয়া বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চলমান রয়েছে। রাখাইন অঞ্চলে মাঠপর্যায়ের স্থিতিশীলতা ও উপযুক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ামাত্রই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারকে অবিলম্বে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদেক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর তাগিদ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য উভয় দেশ নিয়মিত যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজনে একমত পোষাক করে এবং পরবর্তী যৌথ বৈঠক বাংলাদেশে আয়োজনের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।
সীমান্ত বাণিজ্য ও এলএনজি আমদানির সম্ভাবনা
দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত দুই প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্য পরিধি আরও সম্প্রসারণের প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সীমান্ত বাণিজ্য থমকে থাকায় দুই দেশের সীমান্তবাসী ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে সীমিত বা অস্থায়ী পরিসরে সীমান্ত বাণিজ্য চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।”
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্য আমদানি-রপ্তানিসহ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে ‘বিজনেস টু বিজনেস’ (B2B) যোগাযোগ জোরদার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সরাসরি নৌযোগাযোগ ও আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ চালু করার প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এতে করে পরিবহন খরচ ও সময় অনেকাংশে কমে আসবে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বাণিজ্য, পরিবহন ও সীমান্ত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে অন্যান্য প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হবে।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সেলর মিয়াত লুইনসহ উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
