জ্বালানি-গ্যাসের দাম বাড়ালে পেট্রোবাংলা ঘেরাও করা হবে: নাহিদ ইসলাম

জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দফায় দফায় অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর অব্যাহত দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ দ্রুতই রাজপথে নেমে আসবে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “পাঁচ মাসের মাথায় দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থ এই সরকার খুব শিগগিরই জনগণের প্রবল ও গণমুখী প্রতিরোধের মুখে পড়তে যাচ্ছে। ৭০ শতাংশ ভোটারের গণভোটের রায়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে শেখ হাসিনার মতোই অমানবিক দমন-পীড়ন চালাতে হবে, যা এ দেশের মানুষ আর মেনে নেবে না।”

গতকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি চলাকালে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে এক চোখ হারাতে বসা এনসিপি কর্মী আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

‘গ্যাসের দাম বাড়ালে পেট্রোবাংলা ঘেরাও’

নাহিদ ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পেট্রোবাংলা নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সুদূরপ্রসারী পাঁয়তারা করছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে বারবার জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। কিছুদিন পর আবাসিক খাতেও গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মানুষ এখন ঠিকমতো বাসা-বাড়িতে গ্যাস পায় না, অথচ মাস শেষে প্রিপেইড ও পোস্টপেইড বিল ঠিকই গুণতে হচ্ছে। সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা গণপরিবহনে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে তার করুণ প্রভাব সারা দেশের দ্রব্যমূল্যে পড়বে। অবিলম্বে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে আমরা কঠোর কর্মসূচি নিয়ে পেট্রোবাংলা ঘেরাও করব।”

‘তারেক রহমান দেশ ও নিজ দল চালাতে ব্যর্থ’

সরকারকে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, “দেশের অর্থনৈতিক ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এরই মধ্যে রাষ্ট্র এবং নিজের রাজনৈতিক দল চালাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। যিনি নিজের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না এবং নিজের দল সামলাতে পারেন না, তাঁর পক্ষে ১৮ কোটি মানুষের জটিল একটি দেশ পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অসম্ভব।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার ১২টি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিজেদের দলীয় লোক বসিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে চরম দলীয়করণ করেছে এবং পদবঞ্চিত নেতাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসনকে ব্যবহার করছে।

হবিগঞ্জের হামলায় চোখ হারালেন আলিফ, বিচারহীনতার অভিযোগ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত আলিফ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “আলিফের একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। পাশের চোখটি কতটুকু সচল থাকবে, চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। আজ গঠিত মেডিকেল বোর্ড সভার পর বিস্তারিত জানানো হবে। অথচ তিন দিন পার হয়ে গেলেও সরকারের কোনো প্রতিনিধি তাঁর খোঁজ নেননি।”

তিনি ভিডিও ফুটেজের সত্যতা উল্লেখ করে দাবি করেন, “হবিগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ও তাঁর ক্যাডাররা প্রকাশ্যে দিনদুপুরে আলিফের ওপর এই সন্ত্রাসী আক্রমণ চালিয়েছে। মামলা হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর মাধ্যমে সরকার স্পষ্টভাবে বার্তা দিয়েছে যে, বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় যুবদল-ছাত্রদলের সন্ত্রাসী বাহিনী যা খুশি তা করতে পারে এবং দেশে বর্তমানে আইনের শাসনের কোনো অস্তিত্ব নেই।”

অভিভাবকদের সতর্ক করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আপনাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ আজ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর হাতে একেবারেই নিরাপদ নয়। আজ আলিফের চোখ গেছে, কাল আপনার সন্তানও এই সন্ত্রাসী বাহিনীর হিংস্রতার শিকার হতে পারে। হবিগঞ্জের স্থানীয় এমপি জি কে গউছের ন্যূনতম রাজনৈতিক সততা থাকলে তিনি পদত্যাগ করতেন। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নীরব এবং প্রধানমন্ত্রী কেবল শিশু-কিশোরদের কার্যালয়ে ডেকে ছবি তুলে জাতির সঙ্গে দ্বিচারিতা করছেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *