চিত্রনায়িকা পরীমনি অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন নিয়েও বরাবরই আলোচনায় থাকেন। সম্প্রতি রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিয়ে নিয়ে চলা গুঞ্জন, গ্রেপ্তারের অভিজ্ঞতা, চলমান আইনি লড়াই এবং শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দেন।
বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা নানা আলোচনা প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, তিনি কোনো পুরুষের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করলেই সমালোচনার মুখে পড়েন। এমনকি নিজের ভাইয়ের সঙ্গে ছবি দিলেও কটূক্তি শুনতে হয়। তাঁর ভাষায়, মানুষ যেন তাঁকে শুধু একা এবং সন্তানের সঙ্গে দেখতে চায়।
গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে দীর্ঘদিন নীরব থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে পরীমনি বলেন, জেল থেকে মুক্তির পর তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তাঁর বিশ্বাস, সত্য কখনো চিরদিন চাপা থাকে না এবং একসময় তা প্রকাশ পায়।
অভিনেত্রীর দাবি, গ্রেপ্তারের সময় আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, তখন কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল না এবং বাসায় তল্লাশি চালানোর বৈধ অনুমতিও সংশ্লিষ্টদের কাছে ছিল না। পরে পুরো ঘটনার বিবরণ জানার পর তাঁর মনে হয়েছে, অনেক কিছুই পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছিল।
পরীমনি জানান, গত ছয় বছরে ধৈর্যই তাঁকে শক্তি জুগিয়েছে। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে অনেক মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠেছেন এবং এখন নিজেকে অনেকটা স্বস্তিতে অনুভব করেন।
চলমান মামলার বিষয়ে অভিনেত্রী বলেন, তিনি আইনের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন। যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন আদালতে হাজিরা দেবেন। তাঁর বিশ্বাস, একদিন আদালত তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করে সম্মান ফিরিয়ে দেবে।
দেশে শিল্পীদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে পরীমনি বলেন, শুধু শিল্পী নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিল্পী, রিকশাচালক কিংবা যে-ই হোন না কেন, সবাই যেন হয়রানি ও হেনস্তামুক্ত পরিবেশে নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারেন—সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
