টানা অতিবৃষ্টি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যার নেতিবাচক প্রভাবে রাজধানী ঢাকার নিত্যপণ্যের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের সাধারণ মানুষ। বাজারে অন্যান্য পণ্যের চড়া দামের মাঝে সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে কাঁচামরিচের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি, যা সপ্তাহে ১০০ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৪০০ টাকার ঘরে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি নতুন করে বাড়ছে দেশি পেঁয়াজ ও ফার্মের ডিমের দাম, আর বেগুনসহ অধিকাংশ সবজির দর কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৮০ টাকার চড়া বৃত্তে আটকে রয়েছে।
আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার সরজমিনে ঘুরে বিক্রেতা ও সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজার দর ওঠানামার এ চিত্র নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শতকের ধাপ পেরিয়ে কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা
খুচরা ও পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। খুচরা পর্যায়ে ১০০ গ্রাম মরিচ ৪০ টাকা এবং ২৫০ গ্রাম ১০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কোনো ক্রেতা আধা কেজি বা এক কেজি নিলে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা ছাড় পাওয়া যাচ্ছে।
সেগুনবাগিচা বাজারের সবজি বিক্রেতা বুলু মিয়া জানান, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচে দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহে যা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, তার আগের সপ্তাহে তা ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। ফলে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ ৬৫ টাকা
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজের বাজারেও নতুন করে ঝাঁজ বেড়েছে। মাত্র দেড় থেকে দুই সপ্তাহ আগেও বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় পাওয়া যেত। কিন্তু কয়েকদিনের ব্যবধানে ধাপে ধাপে বেড়ে তা এখন ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমনকি চারদিন আগেও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে।
শান্তিনগর বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা এনামুল হক জানান, পাইকারি আড়তগুলোতে হঠাৎ করে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এক সপ্তাহ আগে যে পেঁয়াজ তারা ৪০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন, তা এখন ৬০ টাকায় এবং পাবনার বাছাই করা উন্নত মানের পেঁয়াজ ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বেগুন ১৮০ টাকা, পেঁপে-ঢ্যাঁড়স ছাড়া সব সবজিই ‘সেঞ্চুরি’
চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকেই টানা বৃষ্টি ও দেশের একাধিক জেলায় দেখা দেওয়া বন্যায় সবজির উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বাজারে দু-একটি সবজির দাম সামান্য কমলেও সিংহভাগ সবজির দামই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
বাজারে লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। আর গোল কালো বেগুনের কেজি গিয়ে ঠেকেছে ১৮০ টাকায় এবং সাদা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। এর বাইরে করল্লা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ১১০ থেকে ১৩০ টাকা এবং চিচিঙা ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে ধুন্দল ও পটলের দাম কিছুটা কমেছে; ১০০ টাকা থেকে নেমে বর্তমানে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শুধুমাত্র পেঁপে, ঢ্যাঁড়স ও পটল বাদে অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকা বা তার ওপরে।
ফার্মের ডিমের হালি ৫০ ছুঁইছুঁই, স্থিতিশীল মুরগি
এদিকে আমিষের বাজারে লাল ফার্মের ডিমের দাম আরও এক দফা বেড়েছে। গত সপ্তাহে যে ডিম ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা ডজনে বিক্রি হয়েছিল, এই সপ্তাহে তা বেড়ে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় পৌঁছেছে। অথচ এক মাস আগেও বাজারে এক ডজন ডিম মিলত ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়।
তবে ডিমের বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও মুরগির বাজারে দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি জাতের মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও অসাধু সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারি বাজার তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতারা।
