মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্টের অভিযোগে মেটার ভারত প্রধানসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বিকৃত ছবি এবং আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগে মেটার (Meta) ভারত প্রধানসহ একাধিক পেজ পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে হায়দরাবাদ সাইবার অপরাধ দমন পুলিশ। প্ল্যাটফর্মগুলোতে ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘন করে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং সমাজে বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

হায়দরাবাদ পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, সম্প্রতি নিট (NEET-2026) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র উদ্যোগে পরিচালিত শিক্ষার্থী আন্দোলনের পটভূমিতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে বেশ কিছু কৃত্রিম ও সম্পাদিত (Edited) আপত্তিকর ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

বিজেপির সামাজিক মাধ্যম সেলের অভিযোগে সাইবার মামলা

মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই দুপুরে ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোরাঘুরির সময় বিজেপির তেলেঙ্গানা রাজ্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেলের সক্রিয় সদস্য টি. সাইকিরণ গৌড় প্রথম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তৈরি একাধিক আপত্তিকর পোস্ট এবং রিলস/ছোট ভিডিও দেখতে পান। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই একই দিন (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি হায়দরাবাদ সাইবার অপরাধ দমন থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

অভিযোগপত্রে সাইকিরণ গৌড় উল্লেখ করেন, প্রকাশিত এসব বিকৃত পোস্ট ও ভিডিও ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে কেবল চরম অপমানই করেনি, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও সংহতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। একই সাথে এসব কনটেন্ট সমাজে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র বিদ্বেষ উসকে দিতে এবং সর্বোপরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে বলে অভিযোগে সতর্ক করা হয়।

অভিযোগের সপক্ষে তিনি মেটার প্ল্যাটফর্মে থাকা ২০টি নির্দিষ্ট পোস্ট ও ছোট ভিডিওর ওয়েব লিংক (URL) সাইবার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের জন্য তা সংরক্ষণ করা, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীদের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করা এবং মেটার সরাসরি সহায়তায় তাদের সার্বিক তথ্য উদ্ধারের অনুরোধ জানান। অভিযোগে আরও জোর দিয়ে বলা হয়, এ ধরনের স্পর্শকাতর ও বিকৃত ভিডিওগুলো দীর্ঘ সময় নিজেদের প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত রাখা ও নিয়ন্ত্রণ না করায় মেটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

আইনি ধারা ও মেটার পূর্ববর্তী বিতর্ক

প্রাপ্ত অভিযোগের পর হায়দরাবাদ সাইবার অপরাধ দমন থানার সহকারী উপপরিদর্শক কে. হরি রাম তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act) এবং ভারতের নতুন ফৌজদারি আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’র (BNS) সংশ্লিষ্ট কঠোর ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করেন। পরবর্তীতে মামলার সার্বিক তদন্তভার দেওয়া হয়েছে হায়দরাবাদ সাইবার অপরাধ দমন থানার অভিজ্ঞ পরিদর্শক পি. জয়শঙ্করের কাছে, যিনি ডিজিটাল ফরেনসিক সহায়তায় পরবর্তী তদন্ত পরিচালনা করছেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি অফিশিয়াল ফেসবুক ভিডিও সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তোপের মুখে পড়েছিল মেটা। মূলত নিট-২০২৬ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির দীর্ঘ ৩৬ দিনের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে গত ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর প্রথম বিশেষ বার্তাটি দিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু কারিগরি বিভ্রাটের অযুহাতে মেটা ভিডিওটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সাময়িক মুছে ফেললে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মেটার উর্ধতন কর্মকর্তাদের তলব করে কৈফিয়ত চায়। পরে মেটা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভিডিওটি পুনরায় চালু করেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *