সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম বেতন কাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়নের সব প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া বর্তমানে একবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হলেই শিগগিরই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিললেই নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন (গেজেট) দ্রুত জারি করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামোর সার্বিক অগ্রগতি ও সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন।
প্রক্রিয়া অনুযায়ী দ্রুত কাজ চলছে
নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা গুঞ্জন ও খবর ছড়ানো প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, পে স্কেল সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হলেও সরকার তার নিজস্ব নির্ধারিত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী অত্যন্ত দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। কোনো বিভ্রান্তি বা অনিশ্চয়তার অবকাশ নেই, প্রশাসনিক ধাপগুলো শেষ হলেই এটি দৃশ্যমান হবে।
আইএমএফের ঋণের সঙ্গে পে স্কেলের সম্পর্ক নেই
নতুন পে স্কেল কার্যকর করা হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে চলমান ঋণের কিস্তি বা সহায়তা পেতে কোনো ধরনের বাধা কিংবা সমস্যা তৈরি হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সরকারি কর্মচারীদের পে স্কেল বাস্তবায়নের কোনো ধরনের সম্পর্ক বা সাংঘর্ষিক অবস্থান নেই। ফলে ঋণ পেতে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হবে না।
বিভ্রান্তিকর সংবাদের প্রতিক্রিয়া
পে স্কেল নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিনিয়ত ভিন্ন ভিন্ন খবর প্রকাশের বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমি দুই দিন পরপর বেতন কাঠামো বা পে স্কেল নিয়ে বারবার কথা বলতে চাই না। বিষয়টি নিয়ে একেক গণমাধ্যম এখন একেকভাবে নিজেদের মতো সংবাদ প্রচার করছে, করুক। প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হলে আমি একবারে সংবাদ সম্মেলন করেই চূড়ান্ত কথা বলব।”
সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলের মূল কাঠামো ও আর্থিক সামঞ্জস্য নিশ্চিতের কাজ শেষ দিকে। মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠকে এটি অনুমোদন পেলেই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে তা কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
