মানুষ আমাকে কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখতে চায় না: পরীমণি

অভিনয় এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানান চড়াই-উৎরাই নিয়ে বছরজুড়েই আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ চিত্রনায়িকা পরীমণি। সম্প্রতি শেষ হওয়া ফিফা বিশ্বকাপ চলার সময় তাঁর পুনর্বিয়োর ঘোষণা ও তা বাতিল নিয়ে শোবিজ অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, অতীতে নিজের আলোচিত গ্রেপ্তার, দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাফল্য নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন এই অভিনেত্রী।

বুধবার রাজধানীর শুটিং ক্লাবে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও হতাশার কথা তুলে ধরেন পরীমণি।

‘ভাইয়ের সঙ্গে ছবি দিলেও গালি খেতে হয়’

বিয়ে ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে আক্ষেপ প্রকাশ করে পরীমণি বলেন, “আমি যদি আমার নিজের ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি পোস্ট করি, তবুও কমেন্ট বক্সে আমাকে গালি খেতে হয়। মানুষ আসলে আমাকে অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখতে চায় না। তারা কেবল চায় আমি সিঙ্গেল থাকি এবং আমার সন্তানদের নিয়ে একাকী জীবনযাপন করি। সাধারণ মানুষের মনে কেন এই মানসিকতা তৈরি হলো, তা আমি সত্যিই জানি না।”

অরেস্ট ওয়ারেন্ট ও তল্লাশি অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তারের দাবি

বিগত কয়েক বছর আগের আলোচিত গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে অভিনেত্রী দাবি করেন, জেল থেকে জামিনে বের হওয়ার পর এতদিন তিনি এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ঘটনার বিশ্লেষণে দেখা যায় তাঁর ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়ার মারাত্মক ব্যত্যয় ঘটেছিল।

পরীমণি বলেন, “আমাকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কোনো অফিশিয়াল অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট ছিল না। এমনকি আমার বাসায় ঢুকে তল্লাশি চালানোর মতো আইনি অনুমতিপত্রও (সার্চ ওয়ারেন্ট) তাদের কাছে ছিল না। পরে ঠাণ্ডা মাথায় পুরো ঘটনার বর্ণনা ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে আমার স্পষ্ট মনে হয়েছে, সেদিন যা কিছু ঘটেছিল তার অনেক কিছুই ছিল পূর্বপরিকল্পিত।”

সত্যের জয় ও আদালতে হাজিরার প্রত্যয়

আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে পরীমণি জানান, তিনি শুরু থেকেই বিচার বিভাগের ওপর শ্রদ্ধাশীল। তিনি বিশ্বাস করেন যে, কোনো সত্যকে স্থায়ীভাবে চাপা দিয়ে রাখা যায় না। এই সত্য প্রকাশের প্রত্যাশা নিয়েই তিনি ইতোমধ্যে দীর্ঘ ছয়টি বছর পার করেছেন।

মামলায় নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার বিষয়ে পরীমণি বলেন, “মামলাটি ব্যক্তিগতভাবে কেউ আমার বিরুদ্ধে করেনি, এটি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ছিল। অভিযোগ তোলা হয়েছিল—আমি নাকি সমাজের বিভিন্ন মানুষকে নানাভাবে বিরক্ত ও ব্ল্যাকমেইল করি। আমি আইনের ওপর গভীর আস্থা রাখি। এতদিন ধরে যেমন নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আসছি, ঠিক তেমনই বিচার নিশ্চিত করতে যতদিন লাগে, যেভাবে লাগে, আমি কোর্টে গিয়ে হাজিরা দেব। একদিন আদালত অবশ্যই আমার হারানো সম্মান ফিরিয়ে দেবে।”

সর্বস্তরের নাগরিকদের সুরক্ষার তাগিদ

দেশে শিল্পীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন তোলা হলে পরীমণি বিষয়টিকে সার্বিক সামাজিক প্রেক্ষাপটে দেখেন। তিনি বলেন, “নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু কোনো নির্দিষ্ট তারকা বা শিল্পীর ক্ষেত্রে সীমিত থাকা উচিত নয়। একজন চিত্রশিল্পী, সাধারণ রিকশাচালক কিংবা সাধারণ কর্মজীবী মানুষ—বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা সবাই সব ধরনের হেনস্তা ও নিপীড়ন থেকে স্থায়ী মুক্তি চাই।”

ফেসবুকে নতুন রেকর্ড ও সাকিন আল হাসান প্রসঙ্গে মন্তব্য

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনুসারীর (Followers) দিক থেকে দেশের সকল তারকাদের ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে আসার নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই অভিনেত্রী।

ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানের অনুসারীদের সংখ্যার সাথে নিজের তুলনা প্রসঙ্গে পরীমণি হাসিমুখে বলেন, “গত তিন বছর ধরে বিভিন্ন সংবাদে নিয়মিত দেখছি—’সাকিব আল হাসানের কাছে হেরে গেলেন পরীমণি’। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমি কখনো সংখ্যা বা এই প্রতিযোগিতা নিয়ে মাথা ঘামাইনি। আমরা দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই জগতের মানুষ। সাকিব আল হাসান একজন বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ, আর আমি আমার দেশের একজন সাধারণ শিল্পী। তবে দিনশেষে সাধারণ মানুষ যে আমাকে এত ভালোবাসে, সেটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *