শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর মুখ খুলল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় নানাবিধ অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে টানা ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আর এই বিশাল আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে সারা ভারতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ শাসনকালে কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এভাবে আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করার ঘটনা বিরল।

টানা আন্দোলনের সফল পরিণতির পর এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে—সিজেপির নেতারা কি এবার পুরোদমে মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করবেন? এ নিয়ে ভারতের খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।এখনই রাজনৈতিক দল গঠন লক্ষ্য নয়

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাশ সাক্ষাৎকারে পরিষ্কার জানান, এই মুহূর্তে একটি আলাদা রাজনৈতিক দল গঠন করা তাঁদের প্রধান লক্ষ্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতে এমনিতেই ৭৫০ থেকে ৮০০টির মতো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে, অথচ এদের অনেকেই যুবসমাজের প্রকৃত আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

তাই সিজেপির বর্তমান এজেন্ডা হলো—এই আন্দোলন ও সচেতনতাকে একেবারে তৃণমূল স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে যে দল বা নেতাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা যেন তরুণদের যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো মেনে চলতে বাধ্য হয়।

রাজনীতিতে আসা নিয়ে যা বললেন আশুতোষ রাঙ্কা

ভবিষ্যতে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করে দেননি সিজেপির অপর মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা।

“ভারতে কোনো কিছুকেই আগে থেকে ‘না’ বলতে নেই। তবে এই মুহূর্তে আমার প্রথম কাজ হলো বাড়ি ফিরে একটু বিশ্রাম নেওয়া এবং পরিবারকে সময় দেওয়া। বিগত প্রায় দুই মাস ধরে আমরা বাড়ি থেকে দূরে আন্দোলনের মাঠে রয়েছি। আন্দোলন সফল হওয়াটা আমাদের জন্য যথেষ্ট আবেগঘন এবং স্বস্তিদায়ক।”

আন্দোলন থেকে মন্ত্রীর পদত্যাগ ও সমঝোতা

গত ২০ জুন দিল্লির ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিল সিজেপি। যা প্রথমে ব্যঙ্গাত্মক (Satire) একটি অনলাইন ক্যাম্পেইন হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা সময়ের ব্যবধানে রূপ নেয় দেশের অন্যতম বৃহৎ যুব আন্দোলনে।

পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের সাথে বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগেই অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকটি শেষ হয়।

একইসাথে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব ধরনের ফৌজদারি মামলা ও এফআইআর (FIR) তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। আন্দোলনের জেরে সিজেপি আয়োজকদের নামে ভবিষ্যতে আর নতুন কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার সমঝোতা হওয়ায় সফল সমাপ্তি ঘটে এই বিশাল আন্দোলনের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *