কুখ্যাত ৯/১১ হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ ২৭ বছর পর বিচারের সম্মুখীন খালিদ শেখ মোহাম্মদ

কুখ্যাত ৯/১১ হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচিত খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচারের তারিখ নির্ধারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক আদালতের বিচারক। আগামী ২০২৮ সালের ৫ জুন থেকে শুরু হবে খালিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচারিক কার্যক্রম।

গতকাল বুধবার এক লিখিত আদেশ সামরিক আদালতের বিচারক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বিমান বাহিনী) মাইকেল এ. স্ক্রামা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আদেশে বিচারক বলেছেন, আদালত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বিচার কার্যক্রম শুরু করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বিচারে কোন কোন সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা যাবে তা নিয়ে মতবিরোধসহ বিচার-পূর্ববর্তী বিবাদগুলো নিষ্পত্তির জন্য এই অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটনা ‘৯/১১ হামলা’ ঘটেছিল ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখে। ১৯ জন বিদেশি সন্ত্রাসী ৪টি বাণিজ্যিক বিমান অপহরণ করে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টরের টুইন টাওয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর পেন্টাগনে হামলা চালায়। হামলায় সন্ত্রাসীরাসহ নিহত হয়েছিলেন মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন।

হামলা পরিচালনাকারী সন্ত্রাসীদের ১৫ জন সৌদি আরব, ২ জন সংযুক্ত আরব আমিরাত, একজন লেবানন এবং একজন মিসরের নাগরিক ছিলেন এবং তারা সবাই আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আলকায়দার সদস্য ছিলেন।

খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিমান ছিনতাই থেকে শুরু করে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার টুইন টাওয়ার এবং পেন্টাগনে হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশক ছিলেন তিনি; আর এক্ষেত্রে তার সহকারীর ভূমিকায় ছিলেন ওয়ালিদ বিন আত্তাশ, আলী আবদুল আজিজ আলী এবং মুস্তফা আল হাওসাউই নামে তিন ব্যক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের অপর একটি সামরিক আদালতে এই তিন ব্যক্তির বিচার কার্যক্রম চলছে।

আদালত যদিও ২০২৮ সালের ৫ জানুয়ারি খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচারিক কার্যক্রম শুরু করার তারিখ নির্ধারণ করেছে, তবে শেষ পর্যন্ত ওই দিনই যে বিচার শুরু হবে— তা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। কারণ এর আগেও একবার আদালত ২০২১ সালে খালিদের বিচারের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।

খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং তার তিন সহকারী ওয়ালিদ বিন আত্তাশ, আলী আবদুল আজিজ আলী এবং মুস্তফা আল হাওসাউইকে বর্তমানে কিউবার গুয়ান্তানামো উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির বন্দিশালায় রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *