“খ্যাতি নয়, মানসিক শান্তিই আসল” খোলামেলা স্বীকারোক্তিতে টম হল্যান্ড

মার্ভেল সিনেমার পর্দায় একসময়ের ‘বাচ্চা ছেলে’ বা কিশোর স্পাইডার-ম্যান হিসেবে আবির্ভাব ঘটলেও টম হল্যান্ড এখন নিজের দক্ষতার জোড়ে গোটা হলিউড দুনিয়া দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে এই অভাবনীয় তারকাখ্যাতি, খ্যাতির বিড়ম্বনা, শৈশবের স্মৃতিকথা এবং মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সোশ্যাল মিডিয়া ত্যাগের মতো সংবেদনশীল নানা বিষয়ে ‘রিচ রোল’ (Rich Roll)-এর জনপ্রিয় পডকাস্টে সম্প্রতি খোলামেলা কথা বলেছেন এই হলিউড তারকা।

তাঁর সেই দীর্ঘ আলোচনার নির্বাচিত অংশের বাংলা অনুবাদ নিচে তুলে ধরা হলো—

খ্যাতির বিড়ম্বনা ও জনপরিসর সামলানো

সোশ্যাল মিডিয়া ও বাস্তবে খ্যাতির বিড়ম্বনা প্রসঙ্গে সার্ফারদের জীবনদর্শনের কথা উল্লেখ করে টম হল্যান্ড বলেন:

“সার্ফারদের একটা চমৎকার কথা আমার প্রায়ই মনে পড়ে। তাঁরা বলেন, যখন কোনো বড় ঢেউয়ের মুখোমুখি হবেন, তখন শরীর শক্ত করে ফেলা সবচেয়ে খারাপ কাজ। আপনাকে পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে ভাসিয়ে রাখতে হবে। জনপরিসরে যখন মানুষ ছবি তুলতে ছুটে আসে, তখন আমি যদি তা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি, দিনটাই খারাপ যায়। কিন্তু যদি ইতিবাচকভাবে ভাবি—‘না, এটা তো আমার কাজেরই অংশ, ছবি তুলতে ভালোই লাগছে’, তখন পুরো দিনটাই দারুণ কাটে।”

তবে একজন খাঁটি লন্ডনি (Londoner) হিসেবে এই জীবনধারা মেনে নেওয়া কঠিন ছিল জানিয়ে তিনি যোগ করেন, “লন্ডনে কেউ হঠাৎ রাস্তায় এসে কথা বললে মনে হয়—‘ও আমার সঙ্গে কথা বলছে কেন!’ অদেখা অচেনা মানুষের সাথে কথা বলার ব্যাপারে লন্ডন শহরটা কিছুটা অসামাজিক। তাই তারকা হওয়ার পর মানুষজন যখন হঠাৎ কাছে চলে আসত, শুরুতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সত্যিই কঠিন ছিল। স্পাইডার-ম্যান ১ মুক্তির পর কেউ ছবি তুলতে চাইলে ভাবতাম—আমার সাথে ছবি তোলার কী আছে! কিন্তু সময়ের সাথে আমি তা সহজভাবে গ্রহণ করতে শিখেছি।”

জীবনের লক্ষ্য ও ‘বিলি এলিয়ট’ থেকে অভিনয়ে আগমন

ছোটবেলায় অভিনয়ের প্রতি সচেতন আগ্রহ না থাকার কথা স্মরণ করে টম হল্যান্ড জানান, প্রাইমারি স্কুলের ইয়ারবুক খুঁজে পাওয়ার পর তিনি অবাক হন।

“ইয়ারবুকে ছোটবেলার একটি প্রশ্নে ‘বড় হয়ে কী হতে চাও?’—তার পাশে আমি লিখে রেখেছিলাম: ‘অভিনেতা’! অথচ সচেতন মনে আমি ব্যালে নাচ ও মঞ্চ পারফরম্যান্স নিয়ে থাকতে চেয়েছিলাম। বিলি এলিয়টে সিলেক্ট হওয়ার পর অন্য ছেলেরা যখন রাগবি খেলত, আমি একা স্কুলের টিফিনের সময় জিমনেসিয়ামে নাচের প্র্যাকটিস করতাম। এরপর ‘দ্য ইম্পসিবল’ সিনেমায় সুযোগ পাওয়ার পরই প্রথম মনে হয়—‘আরে, আমি তো অভিনয়টাও করতে পারি!’”

হলিউডে টিকে থাকার পেছনে নিজের বাবার অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে স্পাইডার-ম্যান খ্যাত এই তারকা বলেন, অডিশনে ব্যর্থ হলেও তাঁর বাবা (যিনি নিজে একজন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান ছিলেন) কখনো হতাশা সন্তানের সামনে প্রকাশ করতেন না। সেখান থেকেই জীবনে শতভাগ উজোড় করে দিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা পান তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়া ত্যাগ ও মানসিক স্বাস্থ্য

মানসিক প্রশান্তির জন্য ইনস্টাগ্রাম সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দীর্ঘ বিরতি নেওয়ার পেছনে যে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল, সেটির জবাব দেন হল্যান্ড।

“আমি যখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ব্রেক নিলাম, লোকে বলা শুরু করল—‘তুমি খ্যাতির চাপ সামলাতে পারছ না!’ অথচ আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল ফোন থেকে চোখ তুলে আশেপাশের বাস্তব জগতটার সাথে সংযুক্ত হওয়া। একটানা ৪ ঘণ্টা স্ক্রিন স্ক্রল করার চেয়ে ফোনের কৃত্রিম দুনিয়া থেকে দূরে থাকা জীবনকে অনেক সুন্দর করে তোলে। মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা সবচেয়ে জরুরি। কেউ যদি বলে ভেঙে পড়ার আগ পর্যন্ত কাজ করো, তা সম্পূর্ণ বোকামি। কারণ একবার ভেঙে পড়লে আগের অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগে। তাই একটু বিরতি নেওয়া অন্যায় কিছু নয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *