মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। অত্যন্ত কৌশলগত ও সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’-র পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও সংকটের স্থায়ী সমাধান না থাকায় ওয়াশিংটনের এই প্রস্তাব গ্রহণে অনাগ্রহ দেখিয়েছে তেহরান।
মার্কিন শীর্ষ প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সূত্রে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (ANI)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মধ্যস্থতায় ইরাকি প্রধানমন্ত্রী: পেজেশকিয়ান-আরাঘচির সাথে বৈঠক
সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর হোয়াইট হাউসের গোপন যুদ্ধবিরতির বার্তা নিয়ে তেহরানে যান ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। সেখানে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।
ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন:
“যুক্তরাষ্ট্র সফরের অভিজ্ঞতা ও সামরিক পর্যবেক্ষণ আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াটা প্রতিবেশী ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর স্বাভাবিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ। তবে মূল সমস্যা যুদ্ধবিরতির কাগজে নয়, সমস্যা যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক, আধিপত্যবাদী ও অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের নীতিতে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দৃঢ়ভাবে মার্কিনদের সেই নীতির মোকাবিলা করে যাবে।”
ট্রাম্পের প্রস্তাবে সায় না দেওয়ার মূল কারণ
পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি ও ইরাকি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্প প্রশাসন যে রূপরেখা পাঠিয়েছে, তা বর্তমানে টেবিল থাকা একমাত্র আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব হলেও তাতে মূল বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়নি।
ইরানের স্পষ্ট বক্তব্য—বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের মূল রুট ‘হরমুজ প্রণালি’-র ওপর তেহরানের অবস্থান ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত মৌলিক সমাধান ছাড়া কেবল কোনো সাময়িক বা আংশিক সমঝোতায় আগ্রহ দেখাবে না ইরান।
সংঘাতের ভয়াবহ বিস্তার ও হুথিদের নতুন হুশিয়ারি
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে:
- মার্কিন বিমান হামলা: যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি রেলপথ, বিমানবন্দর, মহাসড়কের সেতু এবং প্রধান সমুদ্রবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
- ইরানের পাল্টা জবাব: এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সেনাশিবিরগুলো লক্ষ্য করে একযোগে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।
বিশ্বজুড়ে বড় সংকটের হুশিয়ারি:
ইরানি কর্মকর্তারা কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরান বা দেশের মূল অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে এই সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে ইরান সরাসরি ইসরায়েলের প্রাণকেন্দ্র তেল আবিবে হামলা বহুগুণ বৃদ্ধি করবে এবং ইয়েমেনের মিত্র হুথি বিদ্রোহীদের সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে লোহিত সাগরের কৌশলগত ‘বাব আল-মান্দাব’ প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ধস নামাবে।
