আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিষিদ্ধ বা ক্ষমাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশ নেওয়ার বিষযটি সম্পূর্ণভাবে প্রচলিত আইন, নতুন প্রণীত বিধিমালা, আদালত এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এখতিয়ারভুক্ত বিষয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আইন পর্যালোচনা করে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের এবং বিএনপি বিষয়টি ইসির ওপরই ছেড়ে দিয়েছে।
গত রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে বিএনপির ২০২৫ সালের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের আনুষ্ঠানিক হিসাব বিবরণী জমা দেওয়ার পর গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে এই হিসাব বিবরণী হস্তান্তরকালে রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
অন্য দলের অবস্থান বিবেচ্য নয়, আইনি প্রক্রিয়া দেখবে ইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ঠেকানোর দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চিঠি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপির অবস্থান জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে রিজভী বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এই বিষয়ে ইসিকে কী চিঠি দিল বা কী বলল, তা এখানে বিএনপির জন্য বিবেচ্য বিষয় নয়। প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন আর কে পারবেন না, তা দেখার একমাত্র আইনগত কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।”
এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোনো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যেহেতু প্রতীকহীন নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তাই আইন অনুযায়ী কার প্রার্থিতা বৈধ আর কার অযোগ্য, সেটি পুরোপুরি ইসি পর্যবেক্ষণ ও নিষ্পত্তি করবে।”
প্রার্থী বাছাই ও বিএনপির আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার রূপরেখা কেমন হবে কিংবা সব প্রার্থীর জন্য নির্বাচন উন্মুক্ত থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব জানান, এটি যেহেতু প্রতীকহীন নির্বাচন, তাই দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ বা সমর্থনের বিষয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম (স্থায়ী কমিটি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এ সংক্রান্ত কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি, সিদ্ধান্ত হলে তা যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
এর পাশাপাশি বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিব ইতোমধ্যে জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে কথা বলেছেন। খুব দ্রুতই স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে কাউন্সিলের সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করে তা দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করা হবে।
১৭ বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই গণবিপ্লব মূলত দেশের হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার ও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই অর্জিত হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃবহালের সুনির্দিষ্ট দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক দলগুলো দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যে আপসহীন আন্দোলন চালিয়ে আসছিল, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণবিপ্লব ছিল তারই চূড়ান্ত ও সফল বহিঃপ্রকাশ। সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থী, তাদের সচেতন অভিভাবক ও আপামর জনতার অভূতপূর্ব আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত এই গণবিজয়কে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক নজিরবিহীন ও উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে অভিহিত করেন।
