বরিশাল নগরে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জহিরুল ইসলাম (জেড আই) খান পান্নার মেয়ে নাদীমা মোহাম্মদি খানের (৩৯) ওপর সংঘবদ্ধ মাদকসেবী ও চাঁদাবাজ চক্রের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। পৈতৃক সম্পত্তি দখল এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার জেরে এই সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে নাদীমা বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় নাদীমা মোহাম্মদি খান বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় তাঁর আপন চাচাসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি তানজিয়া চাঁদনি (৩৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় হামলা, নেপথ্যে সম্পত্তি বিরোধ
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৮ জুলাই) নাদীমা মোহাম্মদি খান এবং তাঁর চাচাতো বোন ঢাকা থেকে বরিশালের নগরে অবস্থিত তাঁদের পৈতৃক বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আসার পর তাঁরা দেখতে পান যে, স্থানীয় কয়েকজন বখাটে যুবক তাঁদের পৈতৃক বাড়ির ভেতরে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে নোংরা করে রাখার পাশাপাশি সেখানে বসে প্রকাশ্য মাদক সেবন ও বেচাবিক্রি করছে।
নাদীমা ও তাঁর বোন এই অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানালে প্রথমে ওই যুবকদের সঙ্গে তাঁদের তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে এবং আগে থেকেই থাকা পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের অংশ হিসেবে শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত দল বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে নাদীমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে নাদীমার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাঁকে রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও চাচার উসকানির অভিযোগ
আহত নাদীমা মোহাম্মদি খান গণমাধ্যমকে জানান, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল এই চক্রটি। সেই অন্যায় দাবিতে রাজি না হওয়ায় মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের এই সংঘবদ্ধ দলটিকে ব্যবহার করে তাঁর ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমাকে আমাদের ন্যায্য পৈতৃক সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে ভয় ও আতঙ্কে আমি যেন আর কোনোদিন বরিশালের এই পৈতৃক বাড়িতে না আসি, ঠিক সেই উদ্দেশ্যেই আমার আপন চাচা নজরুল ইসলাম খানের সরাসরি প্রশ্রয়, ইন্ধন ও উসকানিতে এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে।” তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চাচা নজরুল ইসলাম খানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পুলিশি অ্যাকশন ও কোতোয়ালি থানার বক্তব্য
মামলা দায়েরের পর তৎপরতা শুরু করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। আজ রোববার (১৯ জুলাই) ভোরের দিকে এজাহারভুক্ত আসামি তানজিয়া চাঁদনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আইনজীবী জেড আই খান পান্নার মেয়ের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে এজাহারনামীয় এক নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এই ন্যাক্কারজনক হামলার সঙ্গে জড়িত অন্য সব মূল আসামি ও তাদের সহযোগীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।”
