দেশের রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের সুদৃঢ় বিকাশ এবং অর্জিত স্বাধীনতার সুরক্ষায় দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম জাতীয় ইস্যুতে একটি কার্যকর সমঝোতা বা ‘মিনিমাম আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ থাকা আবশ্যক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি কমপক্ষে কতগুলো প্রধান ইস্যু নিয়ে ন্যূনতম সমঝোতার মধ্যে না থাকে, তবে দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা আবারও চরমভাবে বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) সকালে রাজধানীর উত্তরায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তারুণ্য, উদ্ভাবন ও স্টার্ট আপ নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মন্তব্য করেন।
জুলাই বিপ্লবের গভীর তাৎপর্য ও সংবিধান সংশোধনের তাগিদ
আলোচনা সভায় রুহুল কবির রিজভী ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনা স্মরণ করে বলেন, “আমাদের জাতীয় জীবনে জুলাইয়ের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর, তীক্ষ্ণ এবং সুদূরপ্রসারী। এই ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে আমাদের মন থেকে আরও বেশি উপলব্ধি করতে হবে। রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের যেসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো আমাদের বাকি আছে, সে কাজগুলো আমাদের অত্যন্ত দ্রুততার সাথে করতে হবে।”
তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে আলোচনার ওপর বিশেষ জোর দেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, “ঐতিহাসিক জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের সঙ্গে দেশের প্রধান প্রধান বিরোধী দলগুলো যদি এক টেবিলে বসে আলোচনা করে এবং সেখানে জনগণের স্বার্থে আরও কিছু কথা বলার বা গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংযোজন করার থাকে, তবে সেটা করতে অসুবিধা কোথায়? সেই আলোচনার ভিত্তিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়ে তা দ্রুত আইনকরণ করা দরকার এবং দেশের পবিত্র পার্লামেন্টে (সংসদে) প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধন করা দরকার। এই কাজগুলো রাজনৈতিক দলগুলোকে এক টেবিলে বসে দ্রুতই করতে হবে।”
১৭ বছরের সংগ্রামের মিলিত রূপ জুলাই বিপ্লব
জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে একটি নদীর গতিপথের সাথে তুলনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “একটি নদী যেমন তার উৎপত্তিস্থল থেকে সমগ্র আঁকাবাঁকা পথ অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত মোহনায় এসে মিলিত হয়, ঠিক তেমনি জুলাইয়ের এই গণঅভ্যুত্থানও বিগত ১৭ বছরের চলমান দুঃশাসনবিরোধী রাজনৈতিক ঘটনা, ধারাবাহিক আন্দোলন ও তীব্র সংগ্রামের একটি চূড়ান্ত মিলিত রূপ। আমরা ইতিহাসের পাতায় এর মিলিত রূপ দেখেছি জুলাইয়ের মধ্যে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “জুলাই আমাদের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাজনৈতিক ঘটনা, যাকে আমরা নির্দ্বিধায় একটি সফল বিপ্লব বলি। তরুণ সমাজকে এই বিপ্লবের চেতনা বুকে ধারণ করে দেশের উদ্ভাবন, স্টার্ট আপ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত আলোচনা সভায় প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য, শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং স্টার্ট আপ খাতের তরুণ উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন, যারা উপদেষ্টার দেওয়া রাজনৈতিক ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যকে সাধুবাদ জানান।
