সারাদেশে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি এবং এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রকোপের মধ্যে মশা নিধনে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির উদ্ভাবনসমূহকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দেশের সিটি করপোরেশনগুলোর উদ্দেশে বলেছেন, “প্রথাগত ও অকার্যকর পদ্ধতির বাইরে গিয়ে সিটি করপোরেশনগুলো মশা নিধনে এখন থেকে সম্পূর্ণ দেশীয় উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে পারে এবং তা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজে লাগাতে পারে।”
আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ‘ইয়ুথ টু ওয়ার্ল্ড’ নামক একটি সামাজিক ও গবেষণা সংগঠন আয়োজিত ‘মশা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনারে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।
কেমিক্যাল প্রযুক্তির অকার্যকারিতা ও দেশীয় উদ্ভাবনে সম্ভাবনা
সেমিনারে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মশা নিয়ন্ত্রণে বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “মশা নিয়ন্ত্রণে আমাদের দেশের সিটি করপোরেশনগুলো এখন পর্যন্ত যে ধরনের আমদানিকৃত রাসায়নিক বা কেমিক্যাল ব্যবহার করে আসছে, তা আসলে বর্তমান সময়ে এসে খুব একটা কার্যকর বা কাজে আসছে না। মশারা এই রাসায়নিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলেছে। তবে আমাদের দেশের তরুণ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের দেশীয় রাসায়নিক ব্যবহার করে তৈরি নতুন যে প্রযুক্তি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও সাশ্রয়ী।”
তিনি দেশীয় পরিবেশবান্ধব রাসায়নিক ও জৈবিক উপায়ে মশা নিয়ন্ত্রণের ফর্মুলাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, মেধা ও দেশীয় কাঁচামালের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
প্রধান কাজ লার্ভা নিধন: যৌথ কর্মসূচির তাগিদ
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার বিস্তার রোধে উড়ন্ত মশা মারার চেয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস বা লার্ভা নিধন করাই হলো এখন প্রধান ও সবচেয়ে কার্যকর কাজ। তিনি উদ্ভাবক এবং সিটি করপোরেশনগুলোর সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “তরুণদের এই নতুন উদ্ভাবিত প্রযুক্তির যদি একটি সফল ও নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষামূলক (Pilot Project) কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, তবে মশা নিধনে সিটি করপোরেশন এবং উদ্ভাবকদের যৌথ কর্মসূচি ব্যাপকভাবে সফল হবে।”
তিনি এই প্রযুক্তিগত বিপ্লবে দেশের সবকটি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাকে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় কীটতত্ত্ববিদ, পরিবেশবাদী, গবেষক এবং সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থেকে মশা নিয়ন্ত্রণে দেশীয় প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
