স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্র কাঠামোর কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য সাংবিধানিক সংশোধন অপরিহার্য। এ কারণেই সরকার রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের অঙ্গীকার করেছে।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশই বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে। যেগুলোতে আরও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সংশোধন করা হবে।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা ওয়াকআউট করেছে। অথচ জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি টেকসই সাংবিধানিক সংস্কার প্রয়োজন।
গণভোট প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক বিষয়ে সংশোধন আনা হলে গণভোটের বিধান রয়েছে। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোট সাংবিধানিক গণভোট ছিল না। এটি প্রশাসনিক আদেশের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন আইন আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণয়ন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বিদেশি মডেল অন্ধভাবে অনুসরণ করতে চাই না। বাংলাদেশের বাস্তবতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আইন প্রণয়ন করা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। সেই আত্মত্যাগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে দীর্ঘদিন রাজনীতি করা যাবে না। যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলছেন, তাদের উচিত জনগণের সামনে সেই রূপরেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।
ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মতভেদ থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু জাতীয় প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভেদমূলক বক্তব্য কেবল স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথই প্রশস্ত করবে।
তিনি বলেন, আমরা আর কখনো চাই না গণতন্ত্রের জন্য এ দেশের মানুষকে রক্ত দিতে হোক। তাই সংসদীয় গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
