বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন ডলার আয় করছে ফিফা, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল রাজস্ব

চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব আয়ের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA)। এই বিপুল পরিমাণ আয় টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফার নির্ধারিত প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সংস্থার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অবিশ্বাস্য রাজস্ব ও আয় বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, আসর শুরুর প্রাক্কালে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এই বিশ্বকাপ থেকে ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, যা এখন ৪ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফিফার আর্থিক ও বিপণন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, এবারের আয়ের সিংহভাগ বা বড় অংশ এসেছে মূলত লাক্সারি হসপিটালিটি ও সাধারণ টিকিট বিক্রি থেকে। বিশেষ করে চড়া দামের সেকেন্ডারি মার্কেট বা টিকিট পুনঃবিক্রয়ের বাজার (Ticket Resale Market) থেকে ফিফার তহবিলে বিপুল অর্থ জমা হয়েছে। সেকেন্ডারি মার্কেটের নিয়ম অনুযায়ী, টিকিট পুনঃবিক্রয়ের ক্ষেত্রে ফিফা ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে আরও ১৫ শতাংশ— অর্থাৎ মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ সরাসরি কেটে রাখে, যা এই রেকর্ড আয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

সুসংহত হচ্ছে ইনফান্তিনোর অবস্থান, সদস্য দেশগুলোর মুখে কুলুপ

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের ধারণা, ফিফার এই অভূতপূর্ব বর্ধিত আয়ের সরাসরি সুফল ও আর্থিক অনুদান পাবে বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো। একই সাথে মাঠের বাইরে দলগুলোর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ট্রাম্পের ফোনকল কেলেঙ্কারির মতো নানা বিতর্কে ঘেরা একটি আসর সফলভাবে শেষ করার পর, এই বিপুল আয়ের খতিয়ান দেখিয়ে ইনফান্তিনো ফিফায় নিজের সভাপতি পদ ও অবস্থান আরও সুসংহত করার মোক্ষম সুযোগ পাবেন।

এদিকে, নানা প্রশাসনিক বিতর্ক সত্ত্বেও আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসে হতে যাওয়া ফিফার পুনর্নির্বাচনের জন্য ইনফান্তিনো ইতিমধ্যেই ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছ থেকে ২০০টিরও বেশি লিখিত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পকেটে পুরেছেন। রেকর্ড আয়ের পর বিশ্বজুড়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর বাড়তি উন্নয়ন তহবিল পাওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত হওয়ায়, কিছু অসন্তুষ্ট অ্যাসোসিয়েশন হয়তো ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তাদের অসন্তোষ বা ক্ষোভ প্রকাশ্যে আনা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকবে।

২০৩৮ সালে এককভাবে বিশ্বকাপ চায় আমেরিকা

চলতি আসরে রাজস্বের এমন বিপুল জোয়ার ও বাণিজ্যিক সাফল্য নিকট ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি বিশ্বকাপ এককভাবে আয়োজনের সম্ভাবনাকেও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। ফিফার ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, বিডের (Bid) জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকা পরবর্তী বিশ্বকাপটি অনুষ্ঠিত হবে ২০৩৮ সালে। গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও যুক্তরাষ্ট্রে আবারও ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ওই অনুষ্ঠানে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, “আপনাদের (ফিফা) আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়া উচিত। সেবার (২০৩৮ সালে) আমরা এককভাবে আয়োজক হবো। কানাডা ও মেক্সিকোকে আমাদের সাথে থাকবে না।” নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, শুধু ২০৩৮ বিশ্বকাপই নয়, বরং ২০২৯ সালের ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ (FIFA Club World Cup) এককভাবে আয়োজনের বিষয়েও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে ফিফা কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *