মেগাসিটি ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী ও পরিবেশবান্ধব অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। প্রতিদিন ঢাকা শহরের প্রায় ৩ হাজার টন গৃহস্থালি ও কঠিন বর্জ্য (Solid Waste) পুনর্ব্যবহার করে পরিবেশসম্মত উপায়ে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট (MW) গ্রিন বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এই মেগা প্রকল্পের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ২০২৮ সালের আগস্ট মাসের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে (National Grid) সরবরাহ করা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। টেকসই এই প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী টানা ২৫ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও নীতিগত কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
আমিনবাজারে চীনের সিএমইসি গ্রুপের বড় বিনিয়োগ, সচিবালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আমিনবাজার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি পৃথক ও বৃহৎ প্রকল্প নিয়ে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। এই লক্ষ্যে গত রবিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চীনের খ্যাতনামা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘সিএমইসি গ্রুপ’ (CMEC Group) সম্পূর্ণ নিজস্ব বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ঢাকার আমিনবাজারে এই অত্যাধুনিক ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র’ (Waste-to-Energy Plant) নির্মাণ করবে। প্রকল্পটির ফলে ঢাকার পরিবেশ দূষণ ও ডাম্পিং স্টেশনের জায়গার সংকট চিরতরে দূর হবে বলে মনে করছে সরকার।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ছোঁয়া: চালু হলো ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপ
এদিকে ঢাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও নাগরিক সেবাকে সম্পূর্ণ আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে একটি যুগোপযোগী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ‘ক্লিন কেয়ার’ (Clean Care) নামে এই বিশেষ ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ও মোবাইল অ্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। আজ মঙ্গলবার নগর ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে তিনি এই নাগরিকবান্ধব অ্যাপের শুভ উদ্বোধন করেন।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, এই ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে দক্ষিণ সিটির যেকোনো সাধারণ নগরবাসী তাদের এলাকার পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য পড়ে থাকা বা ময়লা অপসারণের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সরাসরি ছবি তুলে ও লোকেশনসহ সিটি করপোরেশনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে স্থানীয় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের তা দ্রুত সমাধান করতে হবে, যা ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মনিটরিং করা হবে।
মহাসড়কের রূপবদল: আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত রোপণ করা হচ্ছে নিমগাছ
ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান আরও একটি পরিবেশবান্ধব সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, ঢাকার প্রবেশদ্বার আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত ব্যস্ত মহাসড়কের দুই পাশ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় লোকজনের ফেলা ময়লা-আবর্জনা ও প্রশাসনের চরম অব্যবস্থাপনার কারণে অপরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধময় অবস্থায় ছিল। বিষয়টি সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নজরে আসার পর তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সেই কঠোর নির্দেশের পর ঢাকা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে দুই সিটি করপোরেশন সমন্বয় করে ইতিমধ্যেই ওই বিস্তীর্ণ এলাকার বর্জ্য অপসারণ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্নকরণের কাজ শুরু করেছে। একই সাথে মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রাকৃতিকভাবে বাতাস পরিশুদ্ধ রাখার লক্ষ্যে রাস্তার দুই পাশে বিপুল পরিমাণ ‘নিমগাছের’ চারা রোপণের একটি স্থায়ী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। সরকারের এই সমন্বিত গ্রিন প্রজেক্টকে পরিবেশবিদরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।
