এসএসসি খাতা ছাত্র দিয়ে মূল্যায়নের অভিযোগ: শিক্ষক ও শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র একজন শিক্ষার্থী দিয়ে মূল্যায়ন করানোর অভিযোগে এক শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন রসুলপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) মো. বাচ্চু মিয়া। একই ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোসা. পাপিয়া আক্তার বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া ও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগও একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া নিজে মূল্যায়ন না করে তার এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করাচ্ছেন। বিষয়টি শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নজরে এলে তিনি দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং শনিবার রাতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা যায়, গত ২৩ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বোর্ডের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছে। ভিডিওতে এক পর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, “বাচ্চু স্যার তোকে দিয়ে বোর্ডের খাতা মার্কিং করায়, ভালো করে দেখ।” জবাবে ওই শিক্ষার্থী বলে, “এটা একটি ছেলের লাইফ। আমি যে নম্বর দিই, তা বাচ্চু স্যারও জীবনেও দিত না।”

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম ও আলী আহাম্মদ দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, “একজন শিক্ষক কীভাবে বোর্ড পরীক্ষার খাতা একজন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী দিয়ে মূল্যায়ন করান, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে বহু পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।”

দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোসা. পাপিয়া আক্তারের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *