দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে গাজীপুর জেলার জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে বেতন প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক সভায় গৃহীত এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলার পাঁচটি আসনের সংসদ সদস্যরা তাদের এক মাসের মূল বেতন এবং জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক দিনের মূল বেতন ত্রাণ তহবিলে প্রদান করবেন।
রোববার (১২ জুলাই) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির নিয়মিত মাসিক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন। সভায় তিনি বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় নিজের এক মাসের মূল বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর এক দিনের মূল বেতন ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার প্রস্তাবও উত্থাপন করেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংসদ সদস্যের এই প্রস্তাবে জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া তাৎক্ষণিকভাবে সম্মতি জানান। সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরাও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এ মানবিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সমর্থন প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে জেলার অন্যান্য চারটি সংসদীয় আসনের সদস্যরাও তাদের এক মাসের মূল বেতন একই তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সভায় জানানো হয়। এসব অর্থ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে জমা দেওয়া হবে।
সভায় আরও জানানো হয়, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হবে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যায় অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করলেও খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি পর্যায়ের এই উদ্যোগ দুর্গত মানুষের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ জরুরি। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই সিদ্ধান্ত অন্যদেরও মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় এবং দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ মানুষের প্রতিও বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশাসনের মতে, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সমাজে সহমর্মিতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্মিলিত অংশগ্রহণের একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
