দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে আগামী ১৫ আগস্ট রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল’-এর নবনির্মিত ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট দ্বিতীয় ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশরীরে উপস্থিত থেকে এই অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের নতুন ইউনিটটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। গত রবিবার (৫ জুলাই, ২০২৬) হাসপাতালটির সম্প্রসারিত ইউনিট উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আগামী ১৫ আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিট উদ্বোধন করবেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নিজে হাসপাতালটি পরিদর্শন করলে এর সার্বিক চিকিৎসা মান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও তাৎক্ষণিক উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।”
নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ
প্রস্তুতিমূলক সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহারের মূল অঙ্গীকারের আলোকে দেশের পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আমরা বিকেন্দ্রীকরণ করতে যাচ্ছি। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী চিকিৎসা সেবাকে সাজানো হবে, যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া যায়।”
উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, “স্বাস্থ্য খাতের বিকেন্দ্রীকরণ সফল হলে চট্টগ্রাম বা দেশের দূরদূরান্তের কোনো রোগীকে সামান্য চিকিৎসার জন্য কিংবা জটিল স্নায়ুরোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে ভোগান্তিতে পড়তে হবে না। তাঁরা নিজ নিজ এলাকাতেই সেরা মানের সেবা পাবেন।” এই সংস্কার কাজ সফল করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা না করলে তিনি সফল হতে পারবেন না। তিনি নীতি নির্ধারণ করবেন এবং আমরা মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন করব। প্রধানমন্ত্রী যেখানেই ভালো কাজের সম্ভাবনা দেখেন, দেশের মানুষের কল্যাণে সেখানেই ঝাঁপিয়ে পড়েন।”
ডেঙ্গু মোকাবিলায় কঠোর প্রস্তুতি: স্যালাইন ও ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল রেডি
চলতি মৌসুমের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গৃহীত বিভিন্ন দূরদর্শী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, গত দুই মাস ধরেই দেশজুড়ে ডেঙ্গু মোকাবিলার জোরালো প্রস্তুতি চলছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি), সিভিল সার্জন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি করে বিশেষ ‘সমন্বিত কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “সারাদেশে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। মশার লার্ভা ধ্বংসে প্রয়োজনীয় লার্ভিসাইড ট্যাবলেট সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উড়ন্ত মশা নিধনে নিয়মিত ফগিং বা স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর এখন পর্যন্ত আমাদের ডেঙ্গু পরিস্থিতি বেশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনার পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আইভি স্যালাইন মজুত রাখা হয়েছে। কোনো কারণে পরিস্থিতি খারাপ হলে জরুরি সেবা দিতে চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ‘ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল’ (Mobile Hospital) ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনো রোগী ওষুধ বা স্যালাইনের সংকটে না পড়েন।
বিভাগীয় শহরেও হবে নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত সরকারের বিশেষ চিকিৎসা পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমাদের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশের স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। চিকিৎসা বৈষম্য দূর করতে এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে বিশেষজ্ঞ সেবা পৌঁছে দিতে অন্তত চারটি পুরোনো বিভাগীয় শহরে ঢাকার আদলে পূর্ণাঙ্গ ‘নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তবে এই নতুন ইনস্টিটিউটগুলো সফলভাবে পরিচালনার জন্য ঢাকার মূল হাসপাতালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ঢাকার এই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল থেকে যদি আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশেষজ্ঞ নিউরো-সার্জন ও নিউরোলজিস্ট তৈরি করতে না পারি, তবে ঢাকার বাইরে নির্মিতব্য ওইসব ইনস্টিটিউট কার্যকরভাবে চালানো সম্ভব হবে না। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মানসম্পন্ন জনবল তৈরির ক্ষেত্রে এই হাসপাতালকে আরও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”
উক্ত প্রস্তুতিমূলক সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুজ্জামান খান খসরুসহ চিকিৎসা খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এমন সব যুগান্তকারী উন্নয়ন, সরকারি ঘোষণা, আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল তৈরি এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রতিদিনের লাইভ আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন ‘দৈনিক রিপোর্টার বিডি’-এর অনলাইন সংস্করণে।
