সিজেপির বিক্ষোভ: দিল্লিতে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন আটক

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে গত কাল ৯ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি ও তার সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ব্যাপক ধরপাকড় করছে দিল্লি পুলিশ। তার ধরাবাহিকতায় কেরালা রাজ্য সরকারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধী নেতা পিনারাই বিজয়নকেও আটক করা হয়েছে।

পিনারাই বিজয়নের রাজনৈতিক দল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি-মার্কবাদী’র (সিপিআইএম) এমপি জন ব্রিটাস আজ শনিবার এক ভিডিওবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন ব্রিটাস। সেখানে তাকে পিনারাই বিজয়ন ও প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী কে এন বালাগোপালের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

ব্রিটাস দাবি, তাদের আটক করে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং এখন পুলিশ জিপে করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হচ্ছে।

অন্য একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমাদের পুলিশ জিপে করে শহরের চারপাশে ঘোরানো হচ্ছে। প্রথমে আমাদের ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং ৩০-৪০ মিনিট পর এখন আমরা পুলিশ জিপে রয়েছি। আমরা জানি না আমাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতিটা এমনই।”

তার অভিযোগ, “দিল্লি এখন দিল্লি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে এবং মানুষের মৌলিক নাগরিক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির বিক্ষোভের সময় ২০ জুলাই যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি রুখতেই পুলিশ এই আটকের পদক্ষেপ নিয়েছে। উল্লেখ্য, শেষ পর্যন্ত প্রধান পদত্যাগ করেছিলেন এবং সরকার তাদের দাবি মেনে নিয়েছিল।

এবার দিল্লি পুলিশ আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল। রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেট-সহ দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা এবং স্থানীয় মিলিয়ে ২৫০টিরও বেশি ট্রেন—যেগুলোর হযরত নিজামুদ্দিন ও নয়াদিল্লি স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল—সেগুলো বাতিল করা হয়েছে।

পাশাপাশি, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ২০ হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ৩০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়া, গতকাল রাত ১০টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য যন্তর মন্তরের চারপাশের ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের ধরপাকড়ে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে এখন পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে আটক হয়েছেন ১ হাজারের বেশি লোকজন। আটকদের মধ্যে সিজেপির শীর্ষ ৩ সংগঠক অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা, দলের আইন শাখার প্রধান রত্না সিংহ এবং ইউটিউবার-ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠিও আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *