ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তিকে সম্ভাবনাময় বলছেন ব্যবসায়ীরা

আমদানি-রফতানিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে ধীরগতি। বন্দরের কার্যক্রমে গতি ফেরানো না গেলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন বলে মনে করছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। এ অবস্থায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আজ চুক্তি সই হচ্ছে। বিষয়টিকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া ও আরসিইপির মতো বাজারগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ যখন মুক্ত বাণিজ্যের দ্বারপ্রান্তে, তখন দেশের সবচেয়ে বড় বন্দরটির সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।


ভারতের মুম্বাই বন্দরে পণ্য খালাসে সময় লাগে ২ থেকে ৫ দিন, পাকিস্তানের করাচি বন্দরে ২ থেকে ৪ দিন এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে ৩ থেকে ৪ দিন। সেখানে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে একই কাজে সময় লাগে ১০ থেকে ১২ দিন।


এমন বাস্তবতায় বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে গতি বাড়াতে চায় সরকার। গত ১ অক্টোবর বিদেশি অপারেটরকে রেয়াতি চুক্তির খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয় সরকার। এর মাধ্যমে বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেডের পরিবর্তে এনসিটি পরিচালনা করবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। এ বিষয়ে চুক্তি সই হতে যাচ্ছে আজ।


দেশীয় উদ্যোক্তা ও রফতানিকারকরা বলছেন, বন্দরের কার্যক্রমে গতি না ফিরলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। কারণ, ক্রেতাদের কাছে লিড টাইম নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি যথাসময়ে কাঁচামাল পাওয়া গেলে পণ্য তৈরির খরচও কমে দেশের ব্যবসায়ীদের।


এনজেড টেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালেউদ জামান খান বলেন, ‘দক্ষতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। বিদেশি কোনো সরবরাহকারী বা হ্যান্ডেলারের মাধ্যমে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হলে সে উদ্যোগ নেয়া উচিত। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় এবং কোনো নিয়ম বা প্রক্রিয়া এড়িয়ে যেতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা প্রতিদিনই শিখছি। দেশের টেক্সটাইল খাতে দক্ষতা ও প্রযুক্তি বাড়াতে বিদেশ থেকে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও টেকনিশিয়ানও আনা হচ্ছে। সরকার যদি কনটেইনার হ্যান্ডলিংকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেয়, তাহলে প্রয়োজনে বিদেশিদের সহায়তা নেয়া যেতে পারে।’


বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া ও আরসিইপির মতো বাজারগুলোর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় বিশ্ববাজারে বাণিজ্যের পরিধি বাড়াতে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।


পলিসি থিংক অ্যান্ড রিসার্চের চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক বলেন, ‘পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের বন্দর অনেক বেশি আধুনিক। তারা প্রযুক্তিনির্ভর বন্দরে রূপান্তর করেছে। তাই বাংলাদেশ যদি প্রযুক্তিনির্ভর বন্দর পরিচালনা করতে না পারে এবং বর্তমান বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে না পারে, তাহলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরও পিছিয়ে পড়ব। একই সঙ্গে সামনে এলডিসি গ্রাজুয়েশনের যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেটিও আরও বেড়ে যাবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘এখন বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে পারলে এলডিসি গ্রাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। কারণ, তখন আমদানি-রফতানি কার্যক্রম আরও সহজ হবে। বাংলাদেশ কিছুদিন আগে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে এবং এখন আরসিইপির সদস্য হওয়ার পথে রয়েছে। আঞ্চলিক জোট ও দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ছে। এসব সম্পর্ক বাড়ানোর পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতাও এখন বাড়াতে হবে।’


ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটির দায়িত্ব দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় আওয়ামী সরকারের সময়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দর-কষাকষির পর্যায়ে পৌঁছালেও বিভিন্ন আন্দোলনের কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *