মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন একজন নারী। তার নাম ফাতিমা জাহরা আল মানসুরি। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী দল ‘পিএএম’ সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ায় দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।
মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে যে দল সর্বোচ্চ আসন পায়, সেই দল থেকেই রাজা সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে থাকেন। বিবিসি বলছে, আরব বিশ্বের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী হিসেবে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন ফাতিমা জাহরা। এর আগে তিউনিসিয়ার নাজলা বোদেনে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।
৫০ বছর বয়সী ফাতিমা জাহরা বেশ কয়েক বছর মারাকেশের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি তৎকালীন জোট সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
মরক্কোতে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র বিদ্যমান থাকলেও, দেশটির রাষ্ট্রক্ষমতার মূল নিয়ন্ত্রণ মূলত রাজার হাতেই কেন্দ্রীভূত। ফাতিমা জাহরার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন একই দলের প্রভাবশালী রাজনীতিক ও দেশটির ফুটবলপ্রধান ফাউজি লেকজা।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফাতিমা জাহরাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রাজা যখন জুমার নামাজ বা ঈদের জামাতে অংশ নেন, তখন নারী-পুরুষ আলাদা সারিতে বসার প্রথা থাকায় তার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না?
তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে রাজাকে ‘নারীদের সবচেয়ে বড় সমর্থক’ আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘রাজার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সরকারপ্রধান হওয়ার দায়িত্ব যদি আমাকে দেওয়া হয়, তবে তা হবে আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের বিষয়।’
ফাতিমা জাহরা মরক্কোর অন্যতম প্রভাবশালী নারী রাজনীতিক। পেশায় আইনজীবী ফাতিমা মরক্কোর রাজধানী রাবাতের মোহাম্মদ ভি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। পরে তিনি ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা ও করপোরেট আইনের ওপর উচ্চশিক্ষা নেন। ২০০৮ সালে পিএএম গঠিত হওয়ার পর তিনি রাজনীতিতে আসেন। ২০০৯ সালে তিনি প্রথমবারের মতো মারাকেশের মেয়র হন। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর তিনি আবারও সেই দায়িত্ব পান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী আজিজ আখানুচের সরকারে গৃহায়ন ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি তার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব নেন।
অনেকে তাকে ‘লৌহমানবী’ হিসেবে অভিহিত করলেও ফাতিমা জাহরা তা নাকচ করে দিয়েছেন। ২০২১ সালে তার দলের ম্যাগাজিনকে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কেবল একজন স্বাধীন ও সচেতন কর্মী।’
