জ্বালানি সঙ্কটে ৪৫০ গাড়ির লংমার্চ কেন? প্রশ্ন রিজভীর

দেশে বিদ্যমান জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যে বিশাল গাড়িবহর নিয়ে লংমার্চের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জনকল্যাণের কথা বলে শত শত যানবাহনের তেল অপচয় করে রাজনৈতিক কর্মসূচি করার কারণ কী?   

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধীদলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিরোধী দল দেশের বৈশ্বিক সঙ্কট ও জনগণের বাস্তব চাহিদা না বুঝে নানা কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে। যমুনা সেতুর টোল প্লাজার তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের সাম্প্রতিক রংপুরের লংমার্চে প্রায় সাড়ে ৪০০ গাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, যদি জনগণের জন্য ভালোবাসা থাকে, তবে সঙ্কটকালে এই সাড়ে ৪০০ গাড়ির জ্বালানি কেন অপচয় করা হলো? এই জ্বালানি তো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যেতো।   

তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী আমলের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অগণতান্ত্রিক চর্চার বিরুদ্ধেই জনগণ আন্দোলন করেছিলো। কিন্তু এখন বিরোধী পক্ষের মধ্যে আবার সেই পুরনো ধারার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। ঢালাওভাবে সরকারের ওপর সব সঙ্কটের দায় চাপিয়ে বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে জনমনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   

জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের যৌক্তিকতা তুলে ধরে রিজভী জানান, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যেও মূল্য সমন্বয়ের পর সরকারকে প্রতি লিটারে এখনও প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীর সঙ্কট ও বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলো এই বাস্তব চিত্র না তুলে জনগণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে গুমরাহ করার চেষ্টা করছে।   

সম্প্রিত দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সব সহিংসতার পেছনে কেবল পতিত স্বৈরাচারই জড়িত নয়; বরং আত্মস্বীকৃত কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে এসব অপকর্ম চালাচ্ছে।   

জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, জনগণের পক্ষে কখনোই তাদের প্রকৃত কোনো ভূমিকা ছিলো না। ইসলামের কথা বললেও তারা নীতির ধার ধারে না এবং মোনাফেকির আশ্রয় নেয়। 

তিনি মন্তব্য করেন, বারবার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও অপপ্রচারের ঘেরাটোপ তৈরি করার কারণেই জামায়াত কখনোই সাধারণ মানুষের চূড়ান্ত আস্থা অর্জন করতে পারেনি।   

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সরকারের অগ্রগতিদেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমান সরকারের সঠিক পদক্ষেপের ফলে বৈদেশিক রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে। রিজার্ভ ভালো থাকার কারণেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কেনা সম্ভব হচ্ছে। ব্যাংক খাত পুনর্গঠন করে দেশের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে এবং কোনো চক্রান্তই সরকারের এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *