মুসলমানদের এআই দক্ষতা বাড়াতে হবে: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মুসলিম বিশ্বকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও নতুন প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে ইসলামি বিশ্বাস, নৈতিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে হবে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রোববার রাতে ভারতের কেরালামের জামিয়া মার্কাজে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনোয়ার বলেন, এআই ও আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সময়ে মুসলিম আলেম ও সমাজের এ ক্ষেত্র থেকে দূরে থাকার সুযোগ নেই। প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান ও বোঝাপড়ার ঘাটতি মুসলিম সমাজকে বাইরের প্রভাবের কাছে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।

‘জ্ঞান ছাড়া আমরা ব্যর্থ হব। এআই না বুঝলে আমরা উপনিবেশিত হয়ে যাব এবং বিদেশি শক্তির হাতে এমন অস্ত্রে পরিণত হব, যা আমাদের দৃঢ়তা দুর্বল করতে ব্যবহৃত হবে’, বলেন তিনি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলিম সমাজের সামনে চ্যালেঞ্জ শুধু এআই বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন নয়। প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন ঈমান ও নৈতিক মূল্যবোধের আলোকে পরিচালিত হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

তার ভাষ্য, প্রযুক্তি পুরোপুরি মূল্যবোধ-নিরপেক্ষ নয়। সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার না করলে এটি সমাজের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও বিশ্বাসেও প্রভাব ফেলতে পারে।

নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তি গ্রহণের পাশাপাশি ইসলামি জ্ঞান-ঐতিহ্য সংরক্ষণের ওপরও জোর দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্ব যেন আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন জ্ঞানের দিকে এগোতে গিয়ে কোরআন, সুন্নাহ এবং প্রখ্যাত ইসলামি আলেমদের রেখে যাওয়া জ্ঞানভাণ্ডার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে না নেয়।

তিনি বলেন, ইসলামি ঐতিহ্য মুসলমানদের সহনশীলতা, প্রজ্ঞা ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততার গুরুত্ব শেখায়। ভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এসব মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়ার ‘মালয়েশিয়া মাদানি’ ধারণা মানবিকতা, পারস্পরিক সম্মান এবং বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। একই সঙ্গে এটি দেশটির ইসলামি বিশ্বাস ও নৈতিক কাঠামোর সঙ্গেও দৃঢ়ভাবে যুক্ত।

কেরালাম সফরের প্রসঙ্গে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ভারতের এই রাজ্যের সঙ্গে মালয় বিশ্বের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। মালয় দ্বীপপুঞ্জে ইসলাম ও ইসলামি জ্ঞানচর্চার বিস্তারে কেরালাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ ফিলিপাইনের কথাও রয়েছে।

কেরালাম সফরের সুযোগ করে দেওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আনোয়ার। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে তার ভারত সফরের অংশ হিসেবেই তিনি কেরালামে যান।

কেরালামের মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সতীসান ও রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মালয়েশিয়া ও কেরালামের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা করবেন বলে জানান তিনি।

জামিয়া মার্কাজে তার সফর নির্বিঘ্ন করতে সহযোগিতার জন্য কেরালাম রাজ্য কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তাকর্মী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। এ কাজে অমুসলিমদের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন আনোয়ার।

এর আগে আনোয়ার ইব্রাহিমকে শেখ আবু বকর ফাউন্ডেশন এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের জনসেবা এবং শিক্ষা, ইসলামি জ্ঞানচর্চা, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সংলাপ ও মানবকল্যাণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *